>

কল্যাণ মুখোপাধ্যায়

SONGSOPTOK THE WRITERS BLOG | 10/15/2016 |



খাজুরাহোর মন্দির তখন ঝকঝকে রোদে আলোকিত. সঞ্জীব মুগ্ধ হয়ে দেখছে পাথরে খোদাই করা কবিতা। সঞ্জীব শক্ত করে ধরে আছে রমলার হাত -  রমলাও দেখছে  -  তার ভালো লাগার সাথে মিশে আছে খানিক আড়ষ্টতা  - খানিক অস্বস্তি।  সম্মিলিত রমন ক্রিয়া, পশুর সাথে রতি - একের পর এক পাথর খোদাই দেখতে দেখতে সঞ্জীব হঠাৎ বলে উঠলো, " যাহ বাবা! ঘোড়ার পিছনেও লাগতো? দম আছে ! আর ওই দেখো কি পজিশন  ! এ তো নাদিয়া  কোমানেচি  লাগবে ডার্লিং. তোমার  ফিগারে  হবে  না . ঊফ - আর ওইদিকে দেখো - অমন করে করতে হলে তো জয় সুনীতাকেও  ডাকতে হবে. Foursome! ভাবতে পারো! উফ দেখো, দেখো - বুকগুলো দেখো.......পারফেক্ট."
রমলা আঁতকে উঠে এদিক ওদিক তাকিয়ে বললো," আহ Sanjib, behave yourself! এটা একটা পাবলিক প্লেস। "
সঞ্জীব এদিক ওদিক তাকিয়ে কৈফিয়তের সুরে জানালো," সব তো দেখছি adult"
" তো ?" বড় বড় চোখে তিরস্কারের আভাস রমলার.
কথা না বাড়িয়ে সঞ্জীব এগোতে থাকলো.
----------------
রমলা আর সঞ্জীব -  খাজুরাহো গিয়েছিলো হানিমুনে. সেও তো আজ বছর  পাঁচ  হয়ে গেলো. আজ হঠাৎ রমলার কেন ওই কথা মনে পড়লো তা রমলাও জানে না. ও একটু অবাক ই হয়ে গেলো.
-----------------
মন্দির দেখে হোটেলে ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যে নেমে এলো. গা হাত পা ধুয়ে এসে রমলা দেখলো সঞ্জীব ধোপদুরস্ত পাজামা পাঞ্জাবিতে পুরো দস্তুর বাঙালিবাবুটি হয়ে বসে আছে. সামনে রাখা চায়ের সরঞ্জাম. বোধ হয় একটু আগেই দিয়ে গেছে.  রমলা ও বসে পড়লো.
সঞ্জীবের সঙ্গে ওর বিয়ের আগে জানা শোনা ছিল না তা নয়. ঠিক প্রেম যাকে বলে তা হয়তো কোনোদিন করেনি রমলা ও সঞ্জীব. তবে কলেজ ও ইউনিভার্সিটি মিলিয়ে বেশ কিছু বছর কাছাকাছি ছিল বিভিন্ন কাজের সূত্রে. সঞ্জীবের মধ্যে একটা fierce honesty of expression আছে. ভণ্ডামি বা ন্যাকামি নেই. এইটা রমলার বড্ডো পছন্দের. তাই সঞ্জীবের প্রস্তাব আসা মাত্র নির্দ্বিধায় রমলা সায় দিয়েছিলো. বিয়েটাও হুড়মুড় করে হয়ে গেলো. তাড়াহুড়োতে ফুলশয্যার রাত শেষ না হতেই ভোরের ট্রেন. ফুলশয্যার রাত কেটে গেলো বাক্স গোছাতে. মা বাবা শ্বশুর শাশুড়ি কারোর পছন্দ হয় নি ব্যাপারটা. কিন্তু সঞ্জীব তো সঞ্জীব. ফুলশয্যা রইলো মাথায়, খাজুরাহের ট্রেনে বসে মনে পড়লো ফুলশয্যার রাতে একটা চুমুও খেলো না সঞ্জীব.
ওরা একটু তাড়াতাড়িই পৌঁছে গেছিল ষ্টেশনে। ট্রেন ছাড়তে তখনো একটু দেরী ছিল। রমলাকে ট্রেনে বসিয়ে সঞ্জীব "আসছি " বলে কোথায় একটা চলে গেল। ট্রেন ছাড়ার ঠিক মুখে সঞ্জীব হাজির -  হৈহৈ করতে করতে  রমলার কোলে একটা বই ফেলে দিয়ে বসে পড়ল রমলার পাশে। রমলা বইটা তুলে দেখে  সেটা বাৎসায়নের কামসূত্র! রমলা তো লজ্জায় লাল হয়ে শাড়ির ভাঁজে বই লুকোতে পথ পায় না.  সঞ্জীব বলে - "কি হল? দেখো!"
পাশের সিটের মধ্যবয়স্ক মহিলাটি এক ঝলক দেখেই তার পাশে বসা স্বামীকে কি একটা বলে হেসে উঠতেই রমলা প্রায় মাটিতে মিশে গেলো. সঞ্জীবের কি কোনো কান্ডজ্ঞান নেই !
সঞ্জীব নির্লিপ্ত। রমলাকে আর কিছু না বলে  ফিল্ম ফেয়ারের পাতায় দীপিকার অর্ধোন্মচিত বুকের উপর  দৃষ্টি নিবদ্ধ করল.

রমলা  চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বসতেই সঞ্জীবই  প্রথম প্রসঙ্গ উত্থাপন করলো.
" আচ্ছা আমি মন্দিরের সামনে কি misbehave করলাম ?"
" না, misbehave নয় . কিন্তু ওই ভাবে কেউ বলে ?"
" মানে ? চোখের সামনে দেখছি অথচ তা বলতেই দোষ ? আমি তো আর স্ল্যাং কিছু বলিনি রে বাবা  "
" তা বলো নি, কিন্তু তোমার কাজগুলো খুব  embarrasing! "
" এম্বাররাসিং?" সঞ্জীব এবার তেড়ে ফুঁড়ে উঠলো.
প্রমাদ গনলো রমলা. পরিস্থিতি সামাল দিতে চায়ের কাপ রেখে সঞ্জীবের ঠোঁটের  ওপর নিশ্বাস ফেলে আদুরে গলায় বললো, " লাগলো তো! "
সঞ্জীব উত্তর দেবার বদলে রমলার  ঠোঁট দুটো চেপে ধরলো তার নিজের ঠোঁটে।
----------------------

সেই সন্ধ্যেতে কুমারী থেকে যন্ত্রনাবিদ্ধ নারী হয়ে ছিল রমলা. এখনো প্রতিটা  মুহূর্ত মনে আছে রমলার. না যন্ত্রনা শরীর উদ্ভিন্ন করার নয়. কারণ সে যন্ত্রনা রমলা আর এক গভীরতর যন্ত্রনায় মুড়ে নিয়েছিল অনেক ছোটবেলায় যখন দ্বাদশী রমলা শিকার হয়েছিল এক প্রবল যান্ত্রিক ক্ষুধার তারই কাকুর হাতে. সে যন্ত্রণার কথা তো শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেও সঞ্জীবকে বলে উঠতে পারে নি রমলা. সঞ্জীব সেই সন্ধ্যেতে কি ভীষণ রোমান্টিক ছিল . ও রমলার একটি একটি পোশাক খুলে নিচ্ছিলো আর চুমুর আল্পনা আঁকছিলো রমলার প্রতি প্রত্যঙ্গে. রমলা একটা শীতল আগুনের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছিলো. ওর চারিদিকে নিটোল নীল স্বপ্ন. পুরুষের জোরালো গন্ধে ও তখন মাতাল . সঞ্জীব ওর শরীরে নেমে আসছে একটা  সুনীল জলদের  মতো. ওর কানে মুখ রেখে সঞ্জীব বলে উঠলো, " কি নরম তুলতুলে অথচ hot and tight রে তোর pussy ,  উফফ. Can't wait to fuck you dear!  "
হঠাৎ, একদম হঠাৎ একটা তীব্র তীক্ষ্ণ আঘাতে  রমলার সব কিছু ছিন্নভিন্ন হয়ে গেলো. এই সব শব্দ সঞ্জীবের মুখে?
ভিতরে ভিতরে কুঁকড়ে গেলো রমলা. হঠাৎ যেন উড়তে উড়তে পড়ে গেলো মাটিতে. 
ও বলে উঠলো, " কি সব বলছো সঞ্জীব! "
সঞ্জীব একটু অবাক হয়ে বলল, " কেন? ভুল কি বললাম? "
 রমলা সঞ্জীবের মুখে হাত চাপা দিয়ে ফিসফিস করে বললো, " থাক - এখন আর কথা নয়, এসো - আমার কাছে এস".
অনেক পরে যখন সঞ্জীব ওর পাশে তৃপ্তকাম, তখন রমলা ওকে প্রশ্ন করলো,  "এই সব শব্দগুলো তোমার মুখে শুনব ভাবিনি সঞ্জীব! কি করে বললে ওগুলো?"
সঞ্জীব তীক্ষ্ণ উত্তর দিলো, ' প্রব্লেমটা কি বল তো তোমার? ইংরেজী ভাষাতে না যৌন শব্দ উচ্চারণে? দিব্যি তো এনজয় করলে ডার্লিং এতক্ষণ! কথা বলাতেই সমস্যা? করাটাতে নয় তো?"
রমলা ওর দিকে তাকিয়ে থাকলো. নির্বাক.
একটু পরেই সঞ্জীব যোগ করলো," হা হা হা. কি বলতে হতো ? কি শুনতে চাও রমলা? যোনি? শিশ্ন ! সঙ্গম. Penis. Vagina!! যত্ত সব taboo.পারো বটে তোমরা." সঞ্জীবের এই কথার পরে রমলা তাড়াতাড়ি গায়ে কাপড়টা টেনে নিয়েছিল যেন নিজেকে ওই শ্লেষ, ওই ব্যঙ্গ থেকে বাঁচাতে.
সঞ্জীব উঠে পড়ল - তারপর ওকে কাছে টেনে বলল - "এখন কি নৈশাহারে যাবেন মহাশয়া? রাত্রি গভীর হইতেছে!"   
-----------------------

সঞ্জীব বোঝেনা কেন যৌনতায় এতো রাখঢাক. sex ওর কাছে স্বাভাবিক. শ্বাস প্রশ্বাস এর মতো. জীবনের আর একটা সুন্দরতর দিক. কারুর সামনেই যৌনতা নিয়ে কোন কথা বলতে আটকায় না সঞ্জীবের।  ভীষণ frank. না, রমলাও বলতে পারবে না যে ও বিন্দুমাত্র অশ্লীল.  কিন্তু ভিতরে ভিতরে সিঁটিয়ে যেতে থাকে  রমলা .
ও যে ছোট্টবেলা থেকে এই সব শাসনে বড় হয়ে এসেছে. ওর রক্তে আছে. ওর মস্তিষ্কের কোষে কোষে এই অনুশাসন.
-----------------------

জয়ের সঙ্গে রমলার আলাপ শিকাগো এয়ারপোর্টে . তখন বিয়ের বছর দুয়েক পেরিয়েছে.  রমলা ওর অফিসের কাজে গেছিল শিকাগোতে. ফেরার সময় প্লেন ছিল লেট. ক্লান্ত রমলা বসে ছিল কোনের
চেয়ারটাতে. এমন সময় সঞ্জীবের whatsap এলো,"তোর বুকের বোঁটা কামড়ে রক্তাক্ত করবো ?" মুহূর্তে রমলা ঠান্ডা হয়ে গেলো. চোখ বুজে মোবাইল হাতে নিয়ে একদম blank হয়ে গেলো. সে যত নিতে পারে না সঞ্জীব যেন তত যন্ত্রনা দেয় তাকে.
গত দু বছর সে আর সঞ্জীব লড়াই করে এসেছে. ঠিক তখনি টুং করে আবার মেসেজ. সঞ্জীবের. " আচ্ছা বাবা, তোমার স্তনবৃন্তে আমার দন্তকৌমুদী ........এবার ঠিক আছে? নাকি এতে তোমার  taboo."
গা টা কেমন গুলিয়ে উঠলো রমলার. মুখটা সাদা।
" আপনি কি অসুস্থ বোধ করছেন?"
হঠাৎ বাংলা শুনে রমলা চমকে তাকিয়ে দেখলো ওর সামনে বছর চল্লিশের এক যুবক. যুবকের চোখ. যুবকের হাসি.
" না, না ঠিক আছি"
" এটা সত্যি ঠিক আছেন বলে বলছেন, নাকি আমায় এড়াতে বলছেন ?"
রমলা লজ্জা পেল.
" আরে, না, না. ঠিক আছি."
" আমি কি পাশের সীটটাতে বসতে পারি ?"
রমলা শুকনো হেসে বলল  "বসুন না - খালি আছে।  বসুন।"
কথার পর কথা চলতেই থাকলো . ফ্লাইট খালি ছিল সেদিন.
 জয় করিতকর্মা ছেলে। রমলার পাশের সিটটা ম্যানেজ করে ফেললো.
মজার ব্যাপার হল রমলা অনেকবার জোর করে জয়কে গায়ে পড়া ভাবার চেষ্টা করেও পারলো না.
ছত্রিশ  ঘন্টা পরে যখন সঞ্জীব ওকে নিয়ে গাড়িতে ফিরছিলো এয়ারপোর্ট থেকে রমলার চোখের সামনে ভাসছিলো জয়ের স্বপ্ন মাখানো চোখদুটো আর কানে ভাসছিলো,
" যদি বলি ওই চোখ সাগর গভীর,
তবুও থাকবে তুমি এমন স্থির....."
--------------------------

অস্থির হয়ে পড়লো রমলা. তিন বছরের মাথায় বেরিয়ে এসেছিলো সঞ্জীবের কাছ থেকে. জয়ের কাছে ঠিক নয়.
জয় বিবাহিত। রমলার জন্যে জয় সংসার ছাড়তে পারে কি না -এসব কথাও হয়নি ওদের কখনো।
আরেকবার বিয়ে করার সাহস পেলো না রমলা. যোগাযোগ রইলো জয়ের সাথে. কফিতে, কবিতায়, চুম্বনে. কিন্তু বিছানায় যেতে পারলো না রমলা.
নিজের সাথে অনেক লড়াই করে যেদিন গেছিল নিজেকে উজাড় করে দিতে, সেদিন ওর ব্রেসিয়ারের হুক খুলতে খুলতে জয় বলে উঠেছিল, "বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে বিছানায় যাওয়া যায় না  এই ট্যাবু থেকে বেরিয়ে  আসতে হবে রোমি. আমরা তো দুজন দুজনকে ভালোবাসি."
তড়িতাহত হয়ে উঠে বসে রমলা বলেছিলো, " আমায় আর একটু সময় দেবে, জয় ?"
শান্ত স্বরে জয় বলেছিলো, " surely romi, শুয়ে পড়ো"
তারপর রমলার বুকের ওপর লিখেছিলো,
" এই অস্ফুট পদ্মে রইলো আমার প্রেমখানি,
তুমি আমাকেই ভালোবাসো, জানি আমি জানি"
রমলার চোখের কোল বেয়ে জল গড়িয়ে পড়লো.
--------------------

দেখতে দেখতে জয়ের সাথে রমলার আলাপ ও বছর তিনেক হয়ে গেলো. কফিতে, কবিতায় জয় এখনো আছে. হয়তো জয় প্রতীক্ষাতেও...... রমলার ট্যাবু ভেঙে বেরিয়ে আসার .
 রমলা একা শুয়ে শুয়ে ভাবছে,
" জয়, ট্যাবু তাড়াতে বলছো?   সঞ্জীবের ওই সমস্ত expression মেনে নিতে পারলাম না. সে ও তো ও বললো taboo . আমাদের এই বিবাহবহির্ভূত sex তাকেও মেনে নিতে পারছি না, তুমিও বল taboo. আমি তো এমন ভাবেই তৈরী .......  Taboo মুক্ত হতে পারলে তো সঞ্জীবের কাছেই ফিরে যেতে পারি. ও তো এখনো অপেক্ষা করছে. কিন্তু পারছি না যে"



কল্যাণ মুখোপাধ্যায়

Comments
0 Comments

No comments:

Blogger Widgets
Powered by Blogger.