>

মৌ মধুবন্তী

SONGSOPTOK THE WRITERS BLOG | 6/10/2014 |




নোয়াখাইল্যা প্রেম পত্র














গেইল বোছর মাগ মাসে আন্নে কইছিলেন আঁরে
এক্কান চিডি দিবেন। মাগের শীতে কামড় দি আর
চামড়া খানরে খাই খাই করি দিছে। কারে কই?
হেই কথা। হের বাদে আইলও চোইত মাস, এক
দাক্কায়  চইতের রোইদ আঁরে হালাইদিছে গনগইন্যা
চুলার আগুনে। হুইড়তে হুইড়তে আঁই ছাঁই অই
গেলাম। বোইশাক মাসের কাপাইন্যা ঝড়ে, আঁই
হরাণে  কত  শান্তি খুইজলাম। ঠাণ্ডা আঁতের হরশে
কেউ শান্তি দিল না। দমকা বাতাস ডাকাইটি করি
কাড়ি নিল আর হিন্দার কাপড়কান। জ়ৈস্ট মাসের
আমের গন্ধে  চোকে যখন ঘুম নামে, আমি হপন
দেখি আন্নে আঁরে চিডি দিছেন। এক হপনে আঁই
জৈবনের হুইরে একখান ডুব দিছিলাম। এক ডুবে
মাস পার অই আসাঢ় আই আঁরে ভাসাই দিল
নতুন জোয়ারে। হেই জোয়ারে আন্নে আইবেন
নৌকা চালাই- আঁই  জব্বর আলীর দোকান তন
কিরিম আইনছি কিনি। চুরি করি চান্দের আলোয়
মুখে দিছি কিরিম, খোপায় দিছি কদমহুল।আষাঢ়
গেল হাওঁন আইলো, ভাদর , আশ্বিন কইরতে
কইরতে কাত্তিক মাসে কুত্তা কইরলো দৌড়াদৌড়ি
শুরু, অভাগী এই দুচোখে দেই আর বাবি, হায়রে
কপাল, কুত্তার দিন ফেরে, আর কোন চিডি
আইয়েনা। কুত্তার হয়রাণে দইয়া আছে মায়া
আছে, আন্নে বুঝি কুত্তার ও অদম। অগ্রান মাসে
মনে হইলো গলায় দেই হাসি, চান্দ মিয়ার দাক্কায়
আমি আঁই হইস মাসে হুছি। তারহরে মনে মনে
কই--- "হইসের কাচাকাচি রৈদ মাকা হেইদিন
আন্নে কি  আঁ আঁর কাছে আইবেন নি কোনদিন
আন্নে কি  আঁ আঁরে চিডি দিবেননি কোনদিন"


প্রেম এসেছে ঈর্ষা বিভা ঘাটে


  


ঃএমন তন্ময় হয়ে ঐদিকে কি দেখছ?
ঃসবুজ বনানী-
ঃকি আছে তাতে?
ঃ নিবিড় অরণ্য।  ঘনত্বের  বর্ণময় এক আহ্লাদী মেয়ের মত মাথা নাড়ছে বাতাসের দরদে উদ্বেলিত হয়ে।
ঃতুমি কি কবি হয়ে যাচ্ছ?
ঃনা , কবিতা আমার মগজে ঠাই পায়না। আমি বিজ্ঞানী। গবেষণাই আমার কাজ।
ঃতাহলে আমাকে নিয়ে একটু গবেষণা করো।
কে আমি? কোথা থেকে এলাম?
আমিও তো সবুজ ।
আমার দিকে এমন তন্ময় হয়ে তাকাওনি তো কখনো।
ঃ কি করে সম্ভব? তুমি তো লাল শাড়ি পরে আছ।
ঃ হ্যাঁ বিজ্ঞানী, আমি লাল শাড়ি বাইরে, ভেতরে সবুজ বনানী। কোনদিন খুলে দেখনি।
আচ্ছা বলো তো আর কি কি দেখনি আমার.
আমি কেমন করে  হাসি -তা কি জানো?
আমি কেমন করে ঘুমাই তাকি জানো?
আমার পায়ের বাম পাশে কোন জরুল ছিল, কালের ধাক্কায়
ক্ষয়ে গেছে তাকি জানো?
কি জানো - এই আমিটাকে যে নিত্য তোমার থেকে আধ হাত দূরে থাকে।
ঃ তোমাকে নিয়ে আমি অনেক ভাবি।
ঃ কি ভাবো ? বলো না ! তুমি আমার বাতাস, আমি তোমার আগুন। এর বেশী আর কি ভাবো? বলো না বাতাস
ঃ আমি ভাবি- দোতলার ল্যান্ডিং তুমি দাঁড়ালে নিচ থেকে তোমাকে দেখতে কেমন লাগবে?
কিন্তু আমাদের দোতলা বাসা নেই। ল্যান্ডিং নেই। কল্পনার চেয়ে বেশী কিছু না।
ঃ এই হাতের রেখায় আছে , একদিন আমার মস্ত এক প্রাসাদসম বাড়ি হবে। তাতে নিশ্চয় একটা সিঁড়ি থাকবে।
দোতালায় বেশী না হোক, নিদেন পক্ষে
একটা সোহাগ কামরা থাকবে। তখন?
ভাবনার তালিকায় আর কি কি আছে বলো তো , বিজ্ঞানী।
শুনি আজ প্রাণ ভরে।
ঃ দিনের সাথে ভাবনা বদলে যায়।
ভাবি, নৈনিতালে তোমাকে গামছা মাথায় গোসল করা দেখতে কেমন লাগবে,
পদ্ম ফুলের উপর তোমার মখমল পা দোলানিতে শান্ত স্থির জলে
কেমন ঢেউ উঠবে, যেমন ঢেউ তোলো
আমার দাউ দাউ শরীরে রাত গভীরে তোমার আগুন ঢেলে।
ভাবি, কেমন লাগবে এই মুহুর্তে তোমাকে একটানে আমার পাহাড় গুহায় লুকিয়ে নিলে।
ভাবি, তুমিই যদি আমার গবেষণার উপাদান হতে, তাহলে
আমি দৈন্যতায় হারাতাম না। একবারের জন্য আমাকে তুমি রাজা করে দেবে?

ঃ বুকের ভেতর থেকে তরমুজ খুলে তোমাকে দিলাম জীবন পুরাণী।
ঈর্ষাণ্বিত এই বিকেলের ডানা থেকে খুলে নিলাম রঙ্গিন পাখা -তোমাকে আগুন থেকে আড়াল করে রাখব বলে।
 বিকেলের আলনা থেকে একটা সুন্দর রঙ্গিন স্বপ্ন তুলে
বানিয়ে নিলাম স্বপ্নপ্রাসাদ। উঠে আসো দোতলার ল্যান্ডিং এ-পুরণ করো
-প্রেম সমুদ্র আকাঙ্ক্ষা।

তুমি আমারই বিজ্ঞানীঁ।
 






Comments
0 Comments

No comments:

Blogger Widgets
Powered by Blogger.