>

রত্নদীপা দে ঘোষ

SONGSOPTOK THE WRITERS BLOG | 5/09/2014 |
গ্রীষ্মচিত্র






এক 

গ্রীষ্মর সাথে তেমন কোন যোগাযোগ নেই...
ইচ্ছেমতো পিষে ফেলি ক্যাম্পপেগ । বারবিকিউয়ের চুল কালবৈশাখীর তালে তালে ... বুকের বিভূতি...দলে দলে ঝড় ওঠে ... ক্রেয়নের বৈঠকি... কালো আঙুরের ধুন...
ইন্দ্রিয়ফুলের সেইসব পাপড়িদের মনে আছে তোমার? গাড়োয়ালি সেই গ্রীষ্মে আমরা যেন কোন নাটকের রিহার্সাল করেছিলাম? বনের ভেতর, পতঙ্গের থোকায়? খুব আগুন আর ঘামের সিন... তাপমাত্রার টুকরো... মরচে ধরা নাটকের থাম... এখনো তেমনিরঙেই দাঁড়িয়ে আছো বিস্ফোরণের কয়েন ? 
শূন্য আঁকতে আঁকতে শূন্যস্থান হয়ে গেছো... গ্রীকদেবতার মেটাফোর খুঁড়ে অযোনি-সন্ধ্যায় ...সূর্যের একতলায় অসম্ভব কিছুই নয় ... 
এই যেমন আমাকে ছাড়াই পুড়ছে উত্তাপ । 
এই যেমন তোমাকে ছাড়া গ্রীষ্মরা কেমন একা পরে গেছে ...
    

 দুই

গ্রীষ্মের পারফিউমে মাতাল  ... আর আকাশের চাইতে গাঢ় ব্ল্যাকহোল । 
উত্তাপের অহংকার খুঁড়ে আমাকে এনে দাও সৌরফলের বীজ... যত না তামাটে এই উষ্ণতা , তার হু হু পশ্চিম আমাকে চক্ষুদান করে...
ঈশ্বরের ফুটো দিয়ে বেরিয়ে আসি, জরায়ুর সবুজ চোখ। আমাকে উষ্ণ করে এক বিঘত ।  টলমল তুলিতে আঁকি মুখের স্পিডোমিটার... পলকের আশ্বাসে মেহগিনির কলার । হেঁটে যাই সম্ভ্রম ফেলে ... 
এই ভোর-গ্রীষ্মে যদিও সবাই আমাকে গতিজাড্যের কথা বলে... নিরক্ষরেখায় ঘুরে ঘুরে তোমাকেই দেখি... ঘামের জলে ভেসে ভেসে শেখাই শুশুকের নাবিকজীবন... আত্মহত্যার গায়ে ঝুলে থাকে  সূর্যাস্ত ... সোনালি আঁশ, সাম্পানের পিঠ । ছিলিম থেকে লাফিয়ে নামে আগুন...
 কবচ জড়ানো গ্রীষ্মের কর্ণমূর্তিটি... তোমার ডাগর জলের কুণ্ডলে ধুয়ে যায় ... 



 তিন

আকাশ উপচে গ্রীষ্ম ... 
দূর থেকে দেখতে পাচ্ছ লিপগ্লসের পৃথিবী, ক্রিং ক্রিং রোদ। মেঘের টয়ট্রেন, ঝুপ নেমে আসছে খেলনাগাড়ির ডানা... পালকে মিশে যেতে যেতে জানতে পারছো পাখিরা আসলে নানা রঙের লিপস্টিক...
ডাকছি তোমাকে... আর অন্তরীক্ষের পাটায় শুয়ে কেঁপে কেঁপে উঠছি গ্রীষ্মের আলোছুরিতে। অরণ্যদেবের হলুদ সেমিকোলন আমাকে দিচ্ছে নাচের মুদ্রা। গ্রহণ লেগেছে যদি , আস্ত চাঁদ থেকে গড়িয়ে পড়ছে পিগমিবাসের শিখা ...
টেরাকোটায় জড়িয়ে গেছে মাটি আর ধাতুরূপের ঝোপঝাড়... যেসব কমা-ড্যাশ হেরে গেছে প্রজাপতিদের কাটাকুটি খেলায়... এরোপ্লেনের জিভ গিলে ফেলছে তাদের ঘাম, কোরকস্বাদ...
ফিরে আসছো সমভূমির ঘাসমুখে । 
আমাদের অর্ধচন্দ্রাকার বৃত্তে বাঁক নিচ্ছে নদীর গ্রীষ্মধ্বনি...


চার  

গ্রীষ্ম হতে গিয়ে আমি ফুরিয়ে যাচ্ছি ? জ্যোৎস্নার অ্যাড্রেনালিন ক্ষরণ কমে গেছে বুঝি ... ঘাম হয়ে , চিরুনির দাঁড় বেয়ে …আগুন বাজাচ্ছে  মহাধমনীর দুপুর কোকিল ... 
বড়ো বিষণ্ণ এই কুহু । তুলে নিই দিকশূন্যের গোপন কোকিল । । ফসিলের সিলেবাস আঁকা ,আলোর যেমন অন্ধকার ... তেমনি হননের ভুরু । এগিয়ে যায় গোপন চোখ । চোখদুটিকে কেউ দেখতে পায় না । ঝুপঝাপ কড়া নাড়ে শুধু মেঘদর্পণের কোহিনূর । যদি কেউ  দারুচিনির পাহাড় ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে এলাচের সুগন্ধ সমেত । স্তূপাকার বিশল্যকরণীর ঘুম গেয়ে শ্রাবণ আঁকা ব্যার্থ পিপাসার মতো ... হলদে টি-শার্ট পড়া প্রজাপতিরা মোমবাতি যদি জ্বালিয়ে রাখে লগারিদমের তাপ  ... 
বাৎস্যায়নে এই গ্রীষ্ম ভাগ করে নিই ... বকুল কাহিনীদের ভুলপথ ... রক্তের ফুল মালা কাঠ ... দাহ হোক সব ... তবু তারাদের ফুলশয্যা , ঘরে ঢোকে পরমাণু ... বিবাহিতদের অবিবাহিত ছলাকলা । 
ওগো গাছযাত্রার গ্রীষ্মফুল , অলঙ্কার জ্বলছে তোমার সারা গায়ে । ডায়েরীতে মৃত্যুসমগ্র লিখে , চলেছ কোথায় ... 


পাঁচ  

কী  ভীষণ আগুন পাচ্ছে আমার । গ্রীষ্মের তুবড়ি খুলে দেখে নিচ্ছি তোমার না-দেখা মুখ ... 
পাথুরে পাহাড় । চরাচরের হাত তুলে দেখাচ্ছে আমার ছেলেখেলাটি  পড়ে আছে মাঠের ওপারে ... 

গ্রীষ্ম বলছে প্রার্থনা করো , তাকে প্রার্থনা করো ... প্রার্থনার থেকে বড়ো চন্দ্রালোক আর নেই । 
চোখ খুলে দেখি ... নগ্ন আকাশ 
তারা নেই , মেঘ নেই ... বালু নেই 
প্রদক্ষিণের পাশে জেগে ওঠা শরীর শুধু 

তুমি বলছ আমাকে চাও 
আমার ব্রহ্মাণ্ড পার হলেই খুলে যাচ্ছে 
ব্রেসিয়ারের সাদা চক্রান্ত 
মুঠো ধরে আছ শুকতারা 
অপরাধের কিনারে সোহাগের মুদ্রা 

তোমার পাখির নাম জানি না 
শুধু জানি ওর জানালাস্পর্শ 

পাখি আমাকে বলছে , ওগো মেয়ে । তীরধনুকে হেসে ওঠো । যেখানে জল নেই , শুধু শ্যাওলা জমে আছে ... টুকরো টুকরো আগুন । তার পালকটুকু বন্যতা মেখে নীল হয়ে গেছে ... সেই গ্রীষ্মের বালিয়াড়ি অঞ্চল ... ঝিনুকের নিবিড়ে আবিষ্কার করে নাও লক্ষ  বছরের  কাঁঠালচাঁপা ... 

আবার বুজে নিচ্ছি চোখ ... পাতাবাহারে জাগছে অপরূপ সরণি ... লাল রোদের ঘাম । নারায়ণ সাক্ষী , প্রেমে  ভরে নিচ্ছি ঠোঁট । শুষে নিচ্ছি শিকড়সুদ্ধ একটু গোপন ।  গ্রীষ্ম মেলেছে চুরিদার ওড়না আর শালিখের শাড়ি ... ছুঁয়ে ছুঁয়ে ঝরে যাচ্ছে কথাদের চোখের পাতা ... কান্নার ভেতরে গোল গোল জ্যোৎস্নার চাক্তি ... 

লক্ষ্য করো , রাধাচূড়ায় কাতর কিশোরী  । দ্যাখো ,  ঈশ্বরের মত তারও কেমন তামারঙ । 
একটু ছায়ার লোভে পৃথিবীর পিঠে নুয়ে পড়ছে আর মন্ত্রমুগ্ধ ধুলো ওড়াচ্ছে মন্দিরে মন্দিরে ...



Comments
0 Comments

No comments:

Blogger Widgets
Powered by Blogger.