>

প্রিয়দীপ

SONGSOPTOK THE WRITERS BLOG | 5/09/2014 |
জলছায়া 



লিখব সঙ্কল্পেই ......  
কলমের আঁচড়ে আঁচড়ে ভেসে ওঠে আধভাঙা খোঁপা। ক্রমশঃ লজ্জার চৌকাঠ ! আঁচড় গড়িয়ে , আড়মোড়া ভাঙ্গা সুকেশী আঁচল। যার বুনুন জুড়ে’ই  শীতলে  গ্রাস করা - আগুনে’র  সঞ্চিত শব্দ। সন্মোহিত! সজ্জিত মধ্য বুকে , এই বুঝি উঁকি দেয় - পাঁজর ঘ্যাসা নবজাতকের উল্লাস। 

আচ্ছা , এখনো কি ! অমন করেই , কারুকেশে  স্তনবৃন্ত ঢাকো।

সাদা তোয়ালার শোভন দূরত্বে , সদ্য জলডোবা অন্তঃপুরের একেশ্বরী। ধারার দুরন্ত শ্রমে – দগ্ধে প্রশমিত , কুঁড়ি থেকে প্রস্ফুটিত গন্ধরাজ। উৎসের লীনে - উচ্ছল অবয়ব মুড়ে’ই বিন্দু বিন্দু যেন মনোহর গঙ্গা। যার হলদে সাদায় উদ্ভাসিত , গোপনীয়তার মাখন আবরণ।  

আপ্যায়িত সঙ্কল্পে - ডুব শরীরে খুঁজে পাওয়া , সোহাগী নকশী কাঁথার মাঠ ... 

যেন পুণ্যাহে  - 
লালপেড়ে গরদে , বুক ঘিয়ে ব্লাউজে পৌষের কুসুম আলো। চিবুকের রেখায় , গালের ডৌলে , নাকের ডগায় সমুজ্জল  দুব্বা শিশির । দৈব্য রূপ ! বুঝি একেই বলে , ঠাকুর দালানের রূপটান ? সংজ্ঞায় কলম ডুবিয়ে দেই। দৈব্য’বুকে শুষে নেই ঠাকুর দালানের ম ম গন্ধ। ফুল , চন্দন , ধুনোয়  বাউল মাতাল আমি। 

এলিয়ে মধ্যাহ্নে – 
বর্ধিষ্ণু শীত! রোদে দেই , পারুলে। অগলমুক্ত হতে চায়  সম্ভ্রম । ক্রম অনুসারে বিনয়াবত সহিষ্ণু’র , যতো অসহিষ্ণুর তাপ উত্তাপ। কোমল ছাঁচে ছাপ তোলা  তুমুল যুবা’য় , কালো শিফনের বুনো দাপট। উৎসে – 

কত যে নদীর মুখ ,  সে যে কত গভীর   
যায় বোঝা  নাব্যতায় - বিভাজিত  খননে ,
সে তো শুধু বুক নয় , শুধুই ইটরঙা  স্তন’মুকুল নয় – 
এবং নয় শুধু অমৃত হরণে । 

এহেন, সীমানা জুড়েই দুর্ভেদ্য রামকিংকর কোলাজ। অমর মনোহর ভাস্কর্য্য। এমনকি , সীমানা মুছে যাওয়া দুই রঙে মর্মগ্রাহী হতে শেখায় আগামী’র ঠোঁট। ক্রমশ- স্ফুরিত হবে দেব’ শিশু। মমতার লাবন্যে ভরা কুসুমিত মধুভান্ড স্তন , কাতরে , অমৃতক্ষরা ......  বড় অদ্ভুত ! ব্যাঞ্জনাময়ী । এতুমি ,  সাধারণ মানবী নও , এক শক্তির আঁধার । তুমি ঈশ্বরী । 

স্থির সায়াহ্নে  -  
উদ্ভ্রান্ত করে দিচ্ছে , স্মরণাতীতকালের যত শোভন স্মৃতি।, আবহে ... কণিকা । বিচ্ছরিত তরঙ্গে নাইছে মুঠোফোন। সুখ শ্রাব্যে ...... হৃদয় বাসনা পূর্ণ হলো ...।।

শুনছ , হে ইষ্টতম
শুনছ , তিলোত্তমা 
......... ! ও প্রান্তে শব্দ নেই। সংযোগে নীরবতার বাঁধ।

শিরদাঁড়া বেঁয়ে ঘনীভূত যান। উড়ালপুল। উঁচিয়ে ইউক্যালিপটাস । পিছিয়ে যাচ্ছে স্টেশন , ব্যারাকপুর , বারাসাত ...।  আকাশ বেঁয়ে ডানা ঝেঁপে  রুপোলী গোলচে চাঁদ। সম্ভাষণে , ভিজিয়ে দেয়া সমূলে  রাতবাতির মায়া। বিদায়ে অন্তরায় নৈসর্গিক শ্বাস প্রশ্বাসের বিগত যুগল ধ্বনি , অ্যাই উইল লাভ ইউ টিল দা এন্ড । 


এই দ্যাখো ... পারুল ! 
শহুরে ভাবনার প্রত্যুত্তর হয়ে কোথায় বশীভূত হবো , চোখ ঝরিয়ে দিলাম খোলা পাতায় । বেপরোয়া কালো অক্ষরগুলি , ভরপেটে অবলা অশ্রুবিন্দু । 

পাতা জুড়ে সাদা কালোর দুরন্ত মেঘ , ঝম ঝম করা বৃষ্টি ... বৃষ্টির স্বরে দৌড় দৌড় অনেক দৌড় । হাঁপিয়ে মধ্যে মাঠ । খোলা আকাশে – শীতল বাতাসে তোমার হাপুশ উপুশ কচি দুব্বা ঠোঁট , শুষে নেওয়া আমার প্রথম ঈশ্বর কণা । 


উত্তরবঙ্গ । ভারত। 

Comments
1 Comments

1 comment:

Blogger Widgets
Powered by Blogger.