>

কমলেন্দু চক্রবর্তী

SONGSOPTOK THE WRITERS BLOG | 6/15/2015 |




দোমহনীর সব কিছুর মধ্যে ছিল একটা আভিজাত্য ৷ আর চ্যাংড়া বান্ধায় সবকিছু ছিল ব্যবসায়ী ৷ পূর্ব পাকিস্তানের বর্ডার ৷ অনেক কিছু চোরাই ও পাচার হত ৷ সব চাইতে বড় ব্যবসা ছিল পাটের ৷ পাটের ব্যবসায়ীদের বলা হত মহাজন ৷ একবার একমহাজনের বাড়ির মেয়ের বিয়ের নিমন্তন্নে এসেছি ৷ বাবা নিজে এসব নিমন্তন্নে যেত না ৷ কাজেই বলির পাঠা হাজির ৷ এর আগে আমি কোনোদিন একা কারো বাড়িতে নেমন্তন্ন খেতে যাইনি ৷ মা বলল,ভয় পাচ্ছিস কেন ৷ এই টাকাটা যে মেয়ের বিয়ে হচ্ছে তার হাতে দিবি ৷ আর যা খাবার বানাবে,খেয়ে চলে আসবি ৷ মা আমার পকেটে একটা পাঁচ টাকার নোট গুঁজে দিল ৷ 

আমি হেঁটে হেঁটে গেলাম ৷ আমার ঠিক ভয় লাগছিল না,আমার কেমন যেন লজ্জা লাগছিল ৷ গ্রামের বাড়ি বিশাল উঠোন চারদিকে পাকা ঘর ৷ প্রচুর লোক এসেছে ৷ আমি ঢুকতেই একজন বলে উঠল,ঐ তো মাস্টারমশাই-এর ছেলে এসেছে ৷ ও তো ব্রাহ্মণ ৷ এই দিকটায় চলে এসো ৷ দেখলাম উঠোনের ভিতর দিকটা অল্প সংখ্যক মানুষ মেঝেতে ইতিমধ্যে বসে পড়েছে ৷ আর অনেকটা তফাতে সারিসারি অন্যান্য লোকেরা বসে রয়েছে ৷ বামুন বনাম নন বামুন ৷ যাইহোক ওসব নিয়ে ভাবার তখন মনের অবস্থা ছিল না ৷ আমাকে যেখানে বসতে বলা হল আমি সেখানেই বসলাম ৷ ভাত-ডাল-তরকারি দিয়ে বেশ করে পেট ভরিয়ে আমি উঠে পড়লাম ৷ সবাই হৈ হৈ করে উঠল ৷ আরে উঠলে কেন আসল জিনিস তো এখনও পাতে পড়েই নি ৷ কিন্তু আমি বসলাম না ৷ আমার সত্যি পেট ভরে গেছে ৷ আমার একটা ভয়ও কাজ করছিল ভিতরে,মা পাঁচ টাকা দিয়েছে সেটা এখনও মেয়েটার হাতে দেওয়া হয়নি ৷ যদি পাঁচ টাকার বেশী খাওয়া হয়ে যায়,তখন আমি কি করব ৷ কারো কথাতেই কান না দিয়ে আমি ওখান থেকে বেরিয়ে এলাম ৷ কিন্তু এই পাঁচ টাকাটা এখন কী করে দি ৷ মেয়েটা যদি একবার বাড়ির বাইরে বেরতো তাহলে চট করে ওর হাতে টাকাটা দিয়ে পালাতাম ৷ কিন্তু ওকে তো কোথাও দেখাই যাচ্ছে না ৷ বাইরের দিকে একটা কাঠের ঘর ৷ তিন ধাপ কাঠের সিঁড়ি ৷ দেখি লোকজন ভিড় আর ঠেলাঠেলি করে ঢুকছে আর বেরোচ্ছে ৷ বুঝলাম এরমধ্যে কিছু একটা হচ্ছে ৷ আমি ঘুরে গিয়ে জানালা দিয়ে উঁকি মারার চেষ্টা করলাম কিন্তু জানালা পর্যন্ত আমার চোখ পৌঁছাল না ৷ বারতিনেক লাফ মেরে দেখতে পেলাম মাথা সমেত একটা শোলার মুকুট ৷ এবার আমি সিঁড়ি দিয়ে ঘরে ঢুকতে গিয়ে শুধু ধাক্কাই খেলাম কয়েকবার৷ একজন তো বলেই উঠল,এই ছেলে তুই এখানে কি করছিস ৷ ঠেলে কোথায় ঢুকবি,আমার হল মহাবিপদ,পেটভরে খেলাম ৷ আর টাকাটা দিতে পারব না ৷ অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলাম ৷ কিন্তু কোনো লাভ হল না ৷ কিছুতেই ঢুকতে পারছি না,তখন নিজেকে আশ্বস্ত করলাম,কি করব চেষ্টা তো করেছি ৷ চলে এলাম বাড়ি ৷ বাড়ি ফেরার পথে আমার চিন্তায় এল,যাক গে, আমাকে টাকা দিতে হল না ৷ বিনে পয়সায় খেয়ে এলাম ৷ ঘরে ঢুকেই মায়ের হাতে টাকাটা ফিরত দিয়ে বললাম,মা,ওরা কেউ আমার কাছে টাকা চায়নি ৷ আমি দিতে চেষ্টা করেও দিতে পারিনি ৷ ভালোই হল বল ? তোমার টাকাটা বেঁচে গেল ৷

মা শুধু বলল,তুই সেই বোকাই রয়ে গেলি ৷    

চ্যাংড়া বান্ধায় আমার জীবনটা বেশ নিঃসঙ্গ হয়ে গিয়েছিল ৷ কিন্তু এতে আমার কোনো অসুবিধা হত না ৷ বরং কেমন যেন ভালো লাগত ৷ বিকেলে একা ফাঁকা প্লাটফর্মের একটা বেঞ্চে বসে থাকতাম চুপচাপ ৷ কত কী ভাবতাম ৷ আমার জীবনে কোনোদিনই কোনো উদ্দেশ্য (aim) ছিল না ৷ পরীক্ষার খাতায় তোমার কি aim লিখতে গিয়ে ,আমি লিখেছিলাম কৃষক হব,হাল চালাব ৷ আর গায়ে জোর না থাকলে প্রাইমারি স্কুলের মাস্টারমশাই ৷ এর বাইরে আমার চিন্তা যেত না ৷ এবার একটু সেজদার কথা বলি ৷ চ্যাংড়া বান্ধায় আমরা দুই ভাই এ বারান্দা-ঘরে এক বিছানায় শুতাম কাজেই ওকে আগের তুলনায় অনেক বেশি করে দেখেছি ৷ ওর একটাই কাজ পড়া ৷ যতো পারো পরীক্ষার বই পড় ৷ শুধু যে টেক্সট পড়ত ৷ তাই না,বিভিন্ন বই পড়ত ৷ যাকে আমরা reference বই বলি ৷ সমস্ত বই থেকে ভালো ভালো কথা নিয়ে নিজে উওর তৈরী করে খাতায় লিখে রাখত ৷ এখন মনে হচ্ছে,ঐগুলো যে কোনো ভালো ছাএের সম্পদ হতে পারত ৷ আমরা প্রথম থেকেই জোরে চীৎকার করে পড়তাম ৷ আমাদের পড়া পাড়ার অনেকটা দূর পর্যন্ত যেত ৷ দোমহনীতে একটা টেবিলে একটা হ্যারিকেন ঘিরে সব ভাই-বোনেরা গলা ফাটিয়ে পড়ার আওয়াজ করত,বাইরে থেকে কেমন লাগত-এটা এখন খুব জানতে ইচ্ছে করে ৷ যে পড়া কঠিন,সেই পড়া ততো জোরে জোরে পড়া চলত ৷ সবচাইতে জোরে গলা ছিল সেজদার ৷ আজকের ব্যান্ডের কোরাস গানের সঙ্গে আমাদের চীৎকারের প্রতীযোগীতা হলে,কে জিতত বলা মুশকিল ৷ একটা মজার কথা হল,পাশে একজন চীৎকার করে পড়ছে, আর অন্যজন চুপ করে মন দিয়ে অংক কষছে,এতে কিন্তু কারোই কিছু অসুবিধা হত না ৷ 

আমাদের দু-ভাই-এর মধ্যে স্বভাবে মিলের চাইতে অমিলই বোধহয় বেশী ছিল৷ খাওয়া-দাওয়া সব ব্যাপারেই ৷ আর পড়ার ব্যাপারে তো ছিলই ৷ আমি অতটা চিৎকার করতাম,যেটা সেজদা করতো ৷ সেজদা মুখেই বলত,পড়াটাকে সবসময় যুদ্ধ হিসাবে ধরবি ৷ বইয়ের লেখার সঙ্গে যুদ্ধ করবি ৷ 

-কেন পড়াকে বন্ধু করলে হয় না ?
-ফুঃ,পড়াকে বন্ধু ? পড়াকে বন্ধু করলে তুই ওর সঙ্গে মেতে যাবি,ওটাকে কব্জা করতে পারবি না ৷-সত্যি সেজদার পড়াটা ভিওি ও করে রাখাল,এখনকার ছেলেমেয়েরা বুঝতে পারত পড়া কাকে বলে ৷

সেজদা মাঝে মাঝে বলত, আজ পড়াটা বেশী ভালো জমল না ৷ পড়াটা ভালো হল না ৷ মনটা খারাপ হয়ে গেল ৷ আবার অন্যদিন বলত,আজ ভালো পড়া হয়েছে ৷ দেখ গায়ে হাত দিয়ে দেখ ৷ সেজদা ভালো পড়া হওয়া আর ভালো পড়া না হওয়ার একটা মাপকাঠি করেছিল,পড়তে পড়তে শরীরে কতটা ঘাম হল ৷ যত ঘাম,ততো ভালো পড়া ৷ সেজদা যে কেবল চীৎকার করে পড়ত,তাই নয়,কখনও উঠে দাঁড়াত ৷ কখনও বিছানার উপরেই পায়চারী করে পড়া বলত ৷ কখনও বা পুরো হাত পা ছুঁড়ে অভিনয় করে করে পড়া মুখস্থ করত ৷ শীতকালও সেজদার পড়ার সময় শরীর থেকে ঘাম বেরত ৷ আমি অতটা পারতাম বা করতাম না ৷

সেজদা ক্লাশ টেন আর আমি নাইন,একই বিষয়,একই বই ৷ এতে আমার বেশ সুবিধা হত ৷ ওর পড়া শুনে শুনে আমারও ক্লাশ টেনের অনেক পড়া আর বই থেকে পড়তে হত না ৷ স্কুল ফাইনাল পরীক্ষা যা এমন দশ ক্লাশের মাধ্যমিকের সমতুল্য ৷ সেই স্কুল ফাইনাল পরীক্ষায় ইংরাজী পরীক্ষার পরে হল থেকে বেরোতেই সেজদা প্রশ্ম করল,কেমন হয়েছে ৷ 

আমি বললাম,খুব ভালো হয়নি ৷ তবে একটা রচনা খুব ভালো লিখেছি ৷ আগে থেকে জানা ছিল ৷ 
-কোনটা All that glitters is not gold .
-কী দিয়ে শুরু করলি ৷
-কেন ? Boss is a metal,but it is not gold .
-Boss কি ? 
-Boss মানে Boss ৷ তুই তো পড়তি ৷ তখনই আমি মুখস্থ করে রেখেছি ৷ 
-Boss বানান কি লিখেছিস ? 
-সত্যি বলতে Boss বানান লিখতে বেশ কাটাকুটি করে,শেষ পর্যন্ত ঠিক বানান লিখেছি –B,o,s,s .
-হে ভগবান,এইজন্য আমি বলতাম,আমার পড়া শুনছিস শোন,কিন্তু নিজের চোখে একবার বইটা দেখে নে ৷
-কেন কি হয়েছে ৷
-Boss বলে কি কোনও ধাতু হয় ? ওটা হবে BRASS,মানে পিতল ৷ পিতল চকচক করলেও সোনা নয় ৷ 
মনটা খারাপ হয়ে গেল ৷ ভালো উওরটাই খারাপ হয়ে গেল ৷ 

সেজদা একদিন পড়ছে, ‘পাখির দুটি ডানা আছে,পাখির দুটি ডানা আছে৷ সন্ধ্যা থেকে চীৎকার করে একইটা পড়া পাখির দুটি ডানা আছে ৷ যেন গাছের পাখিদেরও শোনাচ্ছে যে ওদের কটা করে ডানা থাকে ৷ আমি আর থাকতে পারলাম না ৷ বললাম সন্ধ্যে থেকে কি পাখির দুটি ডানা আছে চিৎকার করছো ? সবাই জানে পাখির দুটি ডানা আছে ৷ এটা এতবার করে পড়ার কি আছে ? ওর উওর,এখানেই তুই গোলমাল করিস ৷ শোন সব মুখস্থ করে রাখলে শুধু শুধু আর পরীক্ষার সময় ভেবে ভেবে লিখতে গিয়ে সময় নষ্ট হবে না ৷ এই যে পাখির দুটি ডানা আছে,যেই লিখলাম পরের লাইনটা,যেমন সেই ডানা দিয়া তাহারা আকাশে ওড়ে ৷ আবার যেই লিখলাম সেই ডানা দিয়া তাহারা আকাশে আকাশে ওড়ে,সঙ্গে সঙ্গে তার পরের লাইন যেমন,পাখিদের ডানা বিভিন্ন ধরনের হয়-এইসব পরপর মনে এসে যাবে ৷ সব পড়া একেবারে মুখস্থ করে মাথায় রেখে দাও ৷ 

সেজদা অঙ্কও মুখস্থ করত ৷ দু-তিন বছরের যতো টেস্ট পেপার আছে সব উওর ওর মুখস্থ ৷ সেজদার ব্রেনটা গোটাই সব বিষয় মিলিয়ে একটা বই হয়ে গিয়েছিল ৷ আমি একেবারেই মুখস্থ করতে পারতাম না ৷ আমি বোঝার চেষ্টা করতাম ৷ মাঝে মাঝে দু-একটা অঙ্ক না পারলে সেজদাকে বলতাম করে দিতে ৷ সরল অঙ্ক আমাকে করতে দিয়ে বলত উওর কিন্তু হবে ৮ ৷ আর আমি সরল অঙ্কের স্টেপ পরপর করতে গিয়ে কোনো একটা জায়গায় যোগ-বিয়োগে ভুল করে উওর মেলাতে পারতাম ৷ একবার অঙ্ক মিলে গেলে সেজদা ওটা একেবারে মুখস্থ করে রাখত ৷ সেজদা কিন্তু মোটেই খারাপ ছাএ ছিল না ৷ পরবর্তী কালে ওর অনেক নাম ডাক হয়েছিল,ইউনিভারসিটির ---- থেকে অন্যান্য অনেক বড় বড় পদে কাজ করেছে ৷ তার লেখা বই ভারতের বাইরের ছাএরা পড়ে ৷ তুলনায় আমি কিছুই করিনি-কিছুই হয়নি ৷  

স্কুলে দুবার আমি নাটক করেছিলাম ৷ আমাদের বাংলা মাস্টার কেন জানিনা আমাকেই পছন্দ করে হিরো বানিয়েছিল ৷ একটা রবীন্দ্রনাথের খ্যাতির বিরম্বনাআর একটার নাম মনে নেই ৷ এই দুটো নাটক করার পর আমার নাটকের দিকে ঝেঁক বেড়ে গেল ৷ পাড়ার ক্লাবে আরও নাটক করলাম ৷ একবার তো অন্য পাড়া থেকে আমাদের দুই ভাইকে হায়র করে নিয়ে গিয়েছিল ৷ ট্রাকে করে গিয়ে নাটক করে এসেছিলাম ৷ সেদিন মা বলেছিল,নাটক বেশি না করাই ভালো ৷ অর্থাৎ মায়ের বারণ হয়ে গেল৷ এভাবেই একদিন আমার মেজদা সেকেন্ড ডিভিশনে পাশ করেছিল ৷ এবার আমার স্কুল ফাইনাল পরীক্ষা দেবার সময় ৷ 

আমাদের পরীক্ষার সিট পড়েছিল মেকলিগঞ্জে ৷ চ্যাংড়া বান্ধা থেকে এক-আধটা বাস যায় ৷ সেখানে মানুষ যতো যায়,তার সমান যায় ঝুড়ি,কোদাল,---,ছাগল,বোঁচকা ইত্যাদি ৷ বাসে করে মেকলিগঞ্জে পরীক্ষা দেওয়া অসম্ভব ৷ আর মেকলিগঞ্জে রেললাইন নেই ৷ কাজেই ঠিক হল রিক্সা করে যাওয়া হবে ৷ পরীক্ষার কদিনের জন্য সাইকেল রিক্সা ভাড়া করা হল ৷ আমার ধারণা নেই ঠিক কত মাইল যেতে হবে ৷ তবে একঘন্টার অনেক বেশী সময় রিক্সা চাপতে হবে,এটা বুঝেগিয়েছিলাম ৷ সঙ্গে যাবে সেজদা ৷ পরীক্ষা দিতে যাচ্ছি না,রিক্সায় করে বেড়াতে যাচ্ছি জানিনা ৷ তবে বেশ মজা করতে করতেই যেতাম ৷ রাস্তায় আমি বারবার রিক্সাওয়ালাকে বলতাম থামাতে ৷ রিক্সা থামলেই আমি ওর সিটে বসে রিক্সা চালাতে যেতাম ৷ তিন চাকার রিক্সার সবচাইতে বড় সমস্যা হল ব্যালান্স রাখা ৷ প্যাডেল করলেই রিক্সার সামনে চাকা একদিকে ঘুরে যায় ৷ আর রিক্সাও ঘুরে সেদিকেই চলতে থাকে ৷ পরীক্ষার কদিনের মাথায় রিক্সা চালানো শিখে গেলাম ৷ সেজদা বারণ করত বিরক্ত হত,বলত,সব পড়া ভুলে যাবি ৷ পরীক্ষার ব্যাপারে মনটা স্থির রাখতে ৷ কে শোনে কার কথা ৷ যখন মনে হল যে এখন চালাতে পারছি,চালাতে শুরু করলাম ৷ কিছুটা যাওয়ার পরে ব্যালেন্স হারিয়ে ফেললাম ৷ রাস্তার পাশে জমি একদম খাড়া ভাবে নীচে জলা জমিতে ঠেকেছে ৷ আমি প্রায় গড়িয়ে যেতে শুরু করেছি ৷ রিক্সাওয়ালা কোনো রকম লাফ দিয়ে রিক্সাটাকে টেনে ধরে ৷ ব্যাস,সে দিনই রিক্সা চালানো শেষ ৷

(ক্রমশ)

[কমলেন্দু চক্রবর্তী]


Comments
0 Comments

No comments:

Blogger Widgets
Powered by Blogger.