>

রীতা রায় মিঠু।

SONGSOPTOK THE WRITERS BLOG | 7/10/2014 |
হলদে বাড়ীর আঙিনায়

ছোট হলুদ রঙের বাড়ীটি  নিউটাউন শহরের বিশিষ্ট মনোবিদ জেন রোজেনের। স্ত্রী লিন্ডাকে নিয়ে  এই বাড়ীটিতে  উনি অনেক বছর ধরেই আছেন।  জেনের বয়স ৬৯ পূর্ণ হলো গত নভেম্বারে, হাসপাতালের চাকুরী থেকে অবসর নিয়েছেন তিন বছর আগে,  নিজস্ব ক্লিনিক আছে, ওখানেই তিনি স্বাধীনভাবে প্র্যাকটিস করেন।  তার স্ত্রী লিন্ডার বয়স ৬৬, সরকারী চাকুরী থেকে অবসর নিয়েছে গত জুন মাসে।  তাদের এক ছেলে, এক মেয়ে নিজেদের সংসার নিয়ে সুখেই আছে। বছরে দু'বার ওরা বাবা-মায়ের কাছে এসে ছুটি কাটাতে পছন্দ করে। জেন ও লিন্ডার সময় খুব দ্রুত কেটে যায় নাতি-নাতণীদের কাছে পেলে।  অবসর জীবন মোটামুটি  আরামেই কাটছে। তাদের পাড়াটা খুবই ভালো, আশেপাশে প্রতিবেশী যারা আছে, খুবই সজ্জন লোক। মিঃ রোজেনের বাড়ী থেকে একশ গজ দূরেই  স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারী স্কুল নামে বাচ্চাদের একটি স্কুল আছে। দিনের সময়টুকু  ছোট ছোট বাচ্চাদের কলকাকলীতে  চারপাশ মুখর থাকে। প্লে টাইমে ছোট ছোট বাচ্চারা  প্লে গ্রাউন্ডে এসে হুটোপুটি করে, প্রতি দিন ক্লিনিকে আসা-যাওয়ার পথে জেন এই দৃশ্য দেখতে পায়। তার খুব ভালো লাগে, পুরাণো দিনের কথা মনে পড়ে। স্কুলটি প্রায় ষাট বছর আগে তৈরী করা হয়েছিল, তার নিজের দুই ছেলেমেয়ে এই স্কুলে পড়েছে, এলিমেন্টারী স্কুল হলেও  আয়তনে  স্কুলটি অনেক বড়। বর্তমানে ছাত্রছাত্রী সংখ্যা সাতশ'র উপরে। নিউটাউন শহরের নামকরা স্কুল এটি। তাদের বাড়ীর কাছাকাছি স্কুলটি থাকাতে ওদের জন্য ভালোই হয়েছে, ছেলেমেয়েরা কাছাকাছি না থাকলেও নিজেকে একা মনে হয় না। সারাদিনই বাচ্চাদের টুঁই টুঁই শোনা যায়।

রোজেন পরিবারের বাড়ীটি খুব বেশী বড় নয়, তবে বাড়ীটি ছোট হলেও দেখতে বেশ ছিমছাম এবং সাজানো।  বাড়ীর সামনের দিকে ড্রাইভ ওয়ে ঘিরে রঙ বেরঙের মৌসুমী ফুলের বাগান, সারা বছরই কিছু না কিছু ফুল ফোটে।  আর  পেছন দিকে বেশ খানিকটা চওড়া জমি আছে, সেখানে দুই চারটি পাতাবাহারের গাছ, একটি কমলালেবুর গাছ, দুটি ব্লুবেরী গাছ  খুব সুন্দর করে প্ল্যানমাফিক লাগানো হয়েছে। গাছগুলোর ফাঁকে ফাঁকে দুই চারটি কৃত্রিম ফাউন্টেন বসানো আছে , ফাউন্টেনগুলো অবশ্য পাখীদের জল খাওয়ার জন্য রাখা হয়েছে।  সারাদিনে প্রচুর পাখী এসে ভীড় করে ফাউন্টেনের চারপাশে। ঘরে বসে পাখীদের কিচির মিচির শুনতে বেশ লাগে!  বাগানের আরেক কোণে  কিছুটা জায়গা সিমেন্ট বাঁধানো, সেখানে আয়রণ স্টিকে তৈরী টেবল-চেয়ারের সেট আছে,  ছ'টি সাদা স্টিকের চেয়ারের মাঝে কুচকুচে কালো আয়রণ স্টিকে তৈরী গোল টেবিল।  সাদা কালোয় দারুণ কম্বিনেশান।  আর বাগানের ঠিক  মাঝখানটিতে  ছোট একটি জলাশয় আছে, সেখানে রঙ বেরঙের মাছেরা খেলা করে। জলাশয়টি নাতি-নাতণীদের মনোরঞ্জনের জন্য বানানো হয়েছে।  তাদের নাতি-নাতণীদের ভীষন পছন্দের জায়গা এটা। বাগান সাজানোর ব্যাপারে লিন্ডার কথাই শেষ কথা।  তার নির্দেশমতো যখন যা প্রয়োজন, জেন তা যোগান দিয়ে যায়। প্রতিদিন বিকেল হলেই লিন্ডা বাইরের  চেয়ারে এসে বসে, পাখীদের কিচির মিচির শোনে আর কুরুশ কাঁটায় ডিজাইন তুলে নাহয় গল্পের বই পড়ে। 

জেন রোজেন প্রতি সকালেই নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে উঠে। ঘড়িতে সকাল সাতটার এলার্ম সেট করাই থাকে, এলার্ম না বাজলেও সাতটা বাজলেই জেনের ঘুম ভেঙ্গে যায়।  তার স্ত্রী অবশ্য অত সকালে বিছানা ছাড়ে না। সকাল দশটার আগে তো বিছানা ছাড়ার প্রশ্নই আসে না। কারণ লিন্ডা ঘুমাতে যায় অনেক দেরী করে।  মাঝরাত পর্যন্ত জেগে থেকে  সে সেলাই-ফোঁড়াই করে, ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠা হয় না। এখনতো সেলাই নিয়ে অনেক বেশী ব্যস্ত সে। ক্রীসমাস চলে এসেছে। আর আটদিন পরেই ছেলে মেয়েরা আসবে। ওরা আসার আগেই ঘর-বাড়ী রেডী করে ফেলতে হবে। গিফট বক্স র‌্যাপ করার কাজ আছে, দোকান দোকান ঘুরে বাচ্চাদের জন্য গিফট কেনার ব্যাপার আছে, কাজ তো কম নয়, লিন্ডা এগুলো সামলায়। শুধু নিজের নাতি-নাতণীর জন্য নয়, অন্য বাচ্চাদের জন্যও সে গিফট কেনে, গিফট গুলো চার্চে গিয়ে দিয়ে আসে। ওখান থেকেই গরীব বাচ্চাদের কাছে গিফট চলে যায়। কাল সারারাত গিফট র‌্যাপ করেছে সে। সেজন্যই আজ সে অনেকক্ষণ ঘুমাবে।

সকালে ঘুম থেকে উঠেই ক্যালেন্ডারের পাতায় চোখ বুলিয়ে  দিনের প্রোগ্রাম  দেখে নেয়া মিঃ রোজেনের নিত্য তিরিশ দিনের অভ্যাস। আজও তার ব্যত্যয় ঘটে নি।  ১৪ই ডিসেম্বার, শুক্রবারের তারিখটিতে গোল করে দাগ কাটা আছে, অর্থাৎ  আজ ক্লিনিকে স্পেশ্যাল কেইস আছে। হাতে বেশ কিছু সময় নিয়ে বের হতে হবে। নিজের ব্রেকফাস্ট করা হয়ে গেলে  বেইলী কে খাওয়াতে হবে। বেইলী ওদের পোষা বেড়ালের নাম। এমন আরামপ্রিয় আর প্রভুভক্ত বেড়াল জেন আর কোথাও দেখে নি। তার হাতে ছাড়া আর কারো হাতেই সে খাবে না।  এমনকি লিন্ডার হাতেও সে খায় না। কাজেই বাইরে বের হওয়ার আগে তাকেই  বেইলীকে খাওয়ানোর কাজটি করতে হয়। বেইলীকে খাওয়াতে  অবশ্য  তার খুবই ভালো লাগে। খাওয়ার বাটি হাতে জেনকে দেখতে পেলেই হলো, এক লাফে কোলে উঠে বসবে, কিছুক্ষণ মিয়াঁও মিঁয়াও করে আদর খেয়ে তবেই খাবারে মুখ দেবে।

ঘড়িতে এখন সকাল ৯টা বেজে ৩৩ মিনিট। বেইলীর খাওয়া শেষ হয়েছে, লিন্ডা এখনও মনে হচ্ছে কম্ফর্টারের নীচে আরামে ঘুমুচ্ছে। আর মিনিট পনের পরেই জেনকে বের হতে হবে।। হঠাৎ করেই যেনো কাছে পিঠে কোথাও থেকে গুড়ুম গুড়ুম শব্দ ভেসে এলো । একসাথে বেশ অনেকগুলো। বন্দুক ছুঁড়ছে কেউ। হরিণ শিকারের সময় এটা। পাশের জঙ্গলে শিকারীরা হয়তো একসাথে অনেকগুলো হরিণ পেয়েছে! কে জানে! যাক, আর দেরী করা ঠিক নয় ভেবে মিঃ রোজেন ঠিক পৌণে দশটায় ঘর থেকে বের হয়ে গ্যারাজে ঢুকল। গাড়ীটাকে বের করতে যাওয়ার আগ মুহূর্তে নজরে এলো, তার ড্রাইভ ওয়ের সামনেই ফুটফুটে কয়েকটি বাচ্চা অর্ধ বৃত্তাকারে বসে আছে। বাচ্চাগুলোর পাশে দাঁড়ানো এক যুবক। জেন গাড়ীর দরজা না খুলেই বাচ্চাগুলোর কাছে এগিয়ে গেল।  পাশের স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারী স্কুলের ছাত্র। ইউনিফর্মের শার্টে স্কুলের লোগো দেখা যাচ্ছে। কী ব্যাপার! স্কুলে না গিয়ে এরা এখানে কেনো!  কাছাকাছি যেতেই ওদের পাশে দাঁড়ানো যুবকটিকে বলতে শুনল, " কোন চিন্তা করো না, সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে"।

সাথে সাথে বাচ্চাগুলো সমস্বরে বলে উঠলো, " নো ওয়ে! সব মেসড আপ হয়ে গেছে। আমাদের টিচারকে গুলী করে মেরে ফেলেছে। মিস সোটো ইজ ডেড"!

নিজের অজান্তেই জেনের কপাল কুঁচকে গেলো, বলছে কী এরা? টীচার ডেড, মানে কী?  বাচ্চাগুলোর মুখের চেহারায় ভয়ের ছাপ স্পষ্ট।  ছয়টি বাচ্চার মধ্যে চারটি মেয়ে, দুটো ছেলে। সবার বয়স পাঁচ আর ছয়ের মধ্যেই হবে। ওরা হাত ধরাধরি করে বসেছিল,  স্কুলে স্টোরী টাইম বা ইনডোর গেম চলাকালে  যেভাবে বসে ওরা অভ্যস্ত। ছয়জনই শূণ্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে স্কুলের দিকে। জেন রোজেনের বাড়ী থেকে এলিমেন্টারী স্কুল দেখা যায়।  জেন বাচ্চাগুলোর কাছে গিয়ে খুব নরম স্বরে জিজ্ঞেস করলো, " কিসের কথা বলছো তোমরা? স্কুলে না গিয়ে এখানে বাইরে বসে আছো কেনো? কেউ কিছু বলেছে তোমাদেরকে?"

-আমরা স্কুলে যাব না। ওখানে খারাপ লোক আছে, আমাদের টিচারকে গুলী করে মেরে ফেলেছে। আমরা এক ছুটে এখানে চলে এসেছি। তুমি কী রাগ করছো আমরা এখানে বসেছি বলে?

-না , আমি রাগ করিনি, তোমরা এসেছো, আমি খুশী হয়েছি। কিন্তু টিচারকে মেরে ফেলেছে, কে মেরেছে? কী হয়েছে বলোতো সোনামনিরা।  তোমরা কী দেখেছো?

-হ্যাঁ, আমরা দেখেছি। একটা ইয়াং গাই, দুই হাতে বন্দুক নিয়ে এসেছিল, ওটা দিয়ে ফায়ার করেছে। আমাদের টিচারকে মেরে ফেলেছে। আমরা আর কখনও যাব না ওখানে। আমাদেরকেও মেরে ফেলতো, কিন্তু আমরা দৌড়ে পালিয়ে এসেছি। আমাদের টিচার পালাতে পারেনি। মিস সোটোকে মেরে ফেলেছে। 

-ঠিক আছে, তোমাদের কোথাও যেতে হবে না,  এখানেও বসতে হবেনা,  আমি তোমাদের সবাইকে বাড়ীর ভেতরে নিয়ে যাচ্ছি। কোন ভয় নেই বাছারা। আমার নাম জেন রোজেন, এটা আমার বাড়ী। তোমরা এখানে বসেছিলে কেনো? আমার দরজায় নক করো নি কেনো?

-আমরা এখানে বসে আছি, অপেক্ষা করছি  আমাদের বন্ধু এলিস, এমিলি আর  জোয়ানের জন্য।  

-এলিস, জোয়ান, এমিলি ওরা কোথায়?

-আমরা সবাই একসাথে ছুটেছিলাম, কিন্তু এখানে এসে দেখি ওরা আসেনি। কিন্তু ওরা আসবে, ঠিক আসবে।

-নিশ্চয়ই ওরা আসবে।  তোমরা আমার সাথে এসো, এই যে  ইয়াংম্যান এখানে দাঁড়িয়ে আছে, সে এলিস, এমিলি আর জোয়ানের জন্য অপেক্ষা করবে। ওদেরকে দেখতে পেলেই আমাদের কাছে নিয়ে আসবে, ঠিক আছে?

জেনের কাছ থেকে আশ্বাসবাণী শুনে অনেকটাই নিশ্চিন্ত বোধ করলো বাচ্চাগুলো। উঠে দাঁড়িয়ে জেনের হাত দুটো দুদিক থেকে ওরা ধরে রাখলো। জেন টের পাচ্ছিল, বাচ্চাদের হাত গুলো একটু একটু করে কাঁপছে। পাশে দাঁড়ানো যুবকের দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই যুবকটি বলল,

 " আমি স্কুল বাস চালাই। একটু আগেই  স্কুলে অনেক গোলাগুলি হয়েছে। শুনেছি অনেক বাচ্চা মারা গেছে। খবর পেয়েই ছুটে আসছিলাম, ওদেরকে এখানে বসে থাকতে দেখে আমি দাঁড়িয়েছি। অবাক হয়ে গেছি, ওরা কিভাবে পালিয়ে আসতে পারলো?  অপেক্ষা করছিলাম, কখন ওদের বাবা মা আসবে, তাদের কাছে বাচ্চাগুলোকে তুলে দিতে হবে তো! তা এখন তো তুমিই ওদের দায়িত্ব নিয়ে নিলে, আমি তাহলে একটু এগিয়ে যাই। কী ঘটেছে দেখা দরকার!

-আমিও ঠিক বুঝতে পারছি না, একটু আগে বেশ কিছু গুলীর শব্দ শুনতে পেয়েছি। এই কী তবে সেই গুলীর আওয়াজ। হায় ঈশ্বর, আমি ভেবেছিলাম, কেউ বোধ হয় হরিণ শিকার করছে! হায় হায়, এখন কী হবে! ঠিক আছে, তুমি এগোও, পথে আর কোন বাচ্চাকে দেখতে পাওয়া মাত্র আমার বাড়ীতে নিয়ে এসো। গড ব্লেস ইউ!

জেন বাচ্চাগুলোকে নিয়ে বাড়ীর ভেতরে ঢুকছিল আর দু'দিকে মাথা নাড়িয়ে বিন বিন করে বলছিল, গড ব্লেস আমেরিকা! এ কী কঠিন সময় পার করছি আমরা! সাত সকালে এ কী অনাসৃষ্টি কান্ড!  ছেলেপেলের হাতে পিস্তল-বন্দুক থাকে কী করে! বাচ্চাদের মারতেই বা ইচ্ছে হয় কিভাবে"!  

ক্লিনিকে যে এপয়েন্টমেন্ট আছে, তা একদিন পিছিয়ে দিতে হবে। আজ আর যাওয়া হবে না। এসব ভাবতে ভাবতেই জেন চাবি ঘুরিয়ে দরজার লক খুলে বাচ্চাগুলোকে পরম আদরে ঘরের ভেতর নিয়ে এলো। বাচ্চাগুলো ঘরে ঢুকতেই ওদের মুখ থেকে ক্ষনিক আগের সেই ভয় কেটে গেছে। জেন বাচ্চাদের সবকটাকে ঘরে ঢুকিয়ে দিয়েই স্ত্রীকে ঘুম থেকে উঠাতে বেডরুমে চলে গেল। লিন্ডা জেগেই ছিল, সেও গুলির আওয়াজ শুনেছে। বাইরে থেকে তার স্বামীর কথা-বার্তার টুকরো টুকরো অংশ কানে এসেছে। বুঝে নিয়েছে, ধারে কাছে কোথাও  শুটিং হয়েছে। তবে বুঝতে পারেনি, বাড়ীর পাশের এলিমেন্টারী স্কুলটাতে গোলাগুলী হয়েছে।  জেন বেডরুমে ঢুকতেই লিন্ডা জিজ্ঞেস করলো, " হানি,  ঠিক কী হয়েছে বলো তো!  ঘরের ভেতর বাচ্চাদের কথা শুনতে পাচ্ছি!

-হানি, আমাকে জিজ্ঞেস করোনা কী হয়েছে,  আমি ভাবতেই পারছিনা, স্যান্ডি হুকে ম্যাসাকার হয়ে গেছে। আমাদের ড্রাইভ ওয়েতে ছয়টি বাচ্চা ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে বসেছিল। এই বাচ্চাগুলোর চোখের সামনেই ওদের টিচারকে গুলী করে মেরে ফেলেছে। বাচ্চাগুলো কী করে যে পালিয়ে আসতে পেরেছে, তা কে জানে! 

-ওরা এঞ্জেল,  ঈশ্বর ওদেরকে আমাদের বাড়ীতে নিয়ে এসেছে। ওদেরকে কিছু খেতে দাও। বাছারা ভয়ে নীল হয়ে আছে, আহারে!

-ডার্লিং, তুমি একটু আসো তো, আমার মাথাটা ভোঁ ভোঁ করে ঘুরছে। এ আমি কী শুনলাম! বাস ড্রাইভার বললো, অনেক বাচ্চাকে মেরে ফেলেছে।

-অ্যাঁ বলো কি!!

-হ্যাঁ, ড্রাইভারের মুখে যা শুনেছি তাই বললাম, টিভি অন করেছি, ওখানেও একই কথাই বলছে। তবে  এই বাচ্চাগুলোর উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা না করে পারি না। ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে আসার কথা কী করে ওদের মাথায় এলো! তাছাড়া, আরেকটি ব্যাপার আমার মাথায় কিছুতেই ঢুকছে না। বাচ্চাগুলো কী করে বেরিয়ে এলো! এত বড় স্কুলে কেউই দেখতে পেলো না! ওদেরকে এগুলো জিজ্ঞেস করাও ঠিক না, মাত্র ছয় বছর বয়সেই মৃত্যুকে দেখে ফেললো!

-না থাক, ওদেরকে এখন বিরক্ত না করাই ভালো। টিভির সাউন্ড কমিয়ে দাও, ওদের কানে যেনো না যায়।

রোজেন দম্পতী সবার আগে বাচ্চাগুলোকে খেতে দিল। ঘরে চেরী ছিল, আপেল আর কলা সবসময় মজুত থাকে, সেটাও  দিল। সাথে চকোলেট চিপস কুকী, ফ্রুট জুস পেয়ে বাচ্চাদের চেহারা অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এলো। এঘর-ওঘর ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলো।  যশোয়া নামের ছোট ছেলেটি ঘোষণা দিল, 

" আমরা এখানেই থাকবো। আর স্কুলে ফিরে যাব না। ওখানে  মিস সোটোকে মেরে ফেলেছে। আমরা আর যাব না ওখানে। কোথাও যাব না। এই বাড়ীতে থাকবো"।

যশোয়ার সাথে সাথে সকলেই এক সুরে চেঁচিয়ে উঠলো, " আমরা আর কোথাও যাব না, এখানেই থাকবো"।
খুব শান্ত যে মেয়েটি, সে শুধু বললো, " তোমাদের বাড়ীটা অনেক ছোট। আমরা সবাই থাকতে পারবো না। আমি থাকবো না। আমার মায়ের কাছে যেতে চাই"। 

জেন  পেশায় একজন মনোবিজ্ঞাণী, মুহূর্তের মধ্যে বাচ্চাগুলোকে বশ করে ফেললো। এ বাড়ীতে 'টয় রুম' নামে একটি কক্ষ আছে। দুনিয়ার যাবতীয় খেলনা দিয়ে সাজানো। জেনের নাতি-নাতণীরা বেড়াতে এলে এই রুম থেকে আর বের হতে চায় না। জেন দম্পতি কক্ষটিকে শিশু- স্বর্গ বানিয়ে রেখেছে । আজকের অতিথিরাও স্বর্গের সন্ধান পেয়ে গেছে। ওরা সকলেই যখন খেলায় মগ্ন, জেন ওদের প্রত্যেকের কাছ থেকে সুকৌশলে ওদের মা-বাবার ফোন নাম্বার জেনে নিল। লিন্ডাকে বলে রাখলো, বাচ্চাদের দিকে একটু নজর রাখতে। ফোন রিসিভার কানে তুলে একটার পর একটা নাম্বারে ডায়াল করতে লাগলো এবং সকলকেই একই কথাই বললো, 

তোমরা অনেক লাকী বাবা-মা, তোমাদের বাচ্চা খুবই স্মার্ট, মৃত্যুর দুয়ার থেকে পালিয়ে এসেছে। ঈশ্বরের কাছে শুকরিয়া আদায় করো, তোমার বাচ্চাটি আমার কাছে নিরাপদে আছে। তোমাদের সময়মত তোমরা ওকে আমার কাছ থেকে নিয়ে যেও। দুঃশ্চিন্তা করো না, সময় নাও, নিজেকে শান্ত করো,  তারপর গাড়ীতে স্টার্ট দাও, ওরা এখন আমার 'টয় রুমে' বসে মনের আনন্দে খেলা করছে"।

ফোন কল শেষ করে বাইরে এসে দেখে, বাচ্চাগুলো ব্যাকইয়ার্ডে লিন্ডার হাত ধরে ঘুরছে। নিজের নাতি-নাতণীর জন্য ছোট একটা কৃত্রিম পুকুর বানিয়েছে জেন, নিজের হাতে। সেখানে গোল্ড ফিশ ছেড়েছে, সাথে আরও কিছু রঙ বেরঙের মাছ। সবগুলো বাচ্চা পুকুর ঘিরে বসে পড়েছে। দৃশ্যটি দেখে আবেগ সামলাতে পারলো না জেন। দু'চোখ ছাপিয়ে জল এলো। টিভি তখনও অন করা ছিল, টিভি স্ক্রীণে এখন শুধুই কানেকটিকাট ট্র্যাজেডি দেখাচ্ছে। বিশ-পঁচিশজন স্পট ডেড! আহারে! সোনা মানিকেরা শীত ঘুমকে উপেক্ষা করে সাত সকালে স্কুলে এসেছিল! আজ শুক্রবার, আগামী দু'দিন উইকএন্ড এর ছুটি। আর কয়দিন পরেই ক্রীসমাস, স্যান্টা আসবে ওদের জন্য উপহার নিয়ে, কত স্বপ্ন চোখে এঁকে ওরা আজ স্কুলে এসেছিল। এ কী হয়ে গেলো! হায় ঈশ্বর! তুমি কী অন্ধ হয়ে গেছো! তুমি কী বোবা হয়ে গেছো! 

চোখের জল মুছে নিয়ে আবার ফোনের ডায়াল ঘোরাল। নিজের মেয়েকে কল দিয়ে বলতে হবে, আগামী কয়েকদিন যেনো ছেলে-মেয়েকে স্কুলে না পাঠায়। দুই রিং হতেই মেয়ে ফোন ধরলো,

 " ড্যাডি, এসব কী শুনছি?  স্যান্ডি হুকে ফায়ারিং হয়েছে! আমার খুব ভয় করছে, ড্যাডি, কী করবো? জর্জকে স্কুল থেকে নিয়ে আসবো? লিসা বাড়ীতেই আছে, ওর শরীর একটু খারাপ লাগছে বলে স্কুলে পাঠাইনি।

-বেবী, খুব খারাপ, খুব খারাপ খবর এখানে। ছোট ছোট বাচ্চা, আহারে! সাত সকালে নিষ্পাপ শিশুগুলোকে মেরে ফেলেছে! জানো তো, ছয়টি বাচ্চা কী করে যেনো স্কুল থেকে বের হয়ে আমাদের বাড়ী পর্যন্ত চলে এসেছে।

-তাই নাকি!!! ওহ মাই গড, থ্যাঙ্কস গড। 

-বেবী, এখন রাখছি। থাক, জর্জকে আনতে হবে না।  সাবধানে থেকো। লাভ ইউ মাই চাইল্ড।

-লাভ ইউ টু ।

মেয়ের সাথে ফোনে কথা শেষ করতেই কলিং বেল বেজে উঠলো। জেনই এগিয়ে গেলো দরজা খুলতে। দরজা খুলতেই দেখে,  একজোড়া দম্পতি দাঁড়িয়ে। মেয়েটিকে সুস্থ দেখাচ্ছে না, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আছে, ছেলেটি নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করছে। জেন জিজ্ঞেস করলো, তোমরা কারা?

ওরা নিজেদেরকে যশোয়ার বাবা-মা বলে পরিচয় দিল।  মেয়েটি তার ব্যাগ থেকে যশোয়ার পিকচার আইডি বের করে দেখালো, নিজেদের নাম,  ঠিকানা, ফোন নাম্বার সব কিছুই জানালো। জেন ওদেরকে জিজ্ঞেস করলো, 

-তোমরা কী কোন কোড বলতে পারো যা তোমাদের ছেলেকে বললে বুঝতে পারবে!
-মেয়েটি বলো, আমি ওকে আদর করে 'যসমস',' ক্রিসপি পাই', এঞ্জেল ডাকি।
মেয়েটির কাছ থেকে কোড জেনে নিয়ে ভেতরে চলে গেলো জেন। ব্যাকইয়ার্ডে গিয়ে শুধু বললো, 

এখানে ক্রিসপি পাই কোনজন?

যশোয়া এগিয়ে এলো, বললো, তুমি এ নাম কী করে জানো? এটা তো আমার সিক্রেট নেম, ওনলি আমার মাম্মা জানে।

-তোমার মাম্মা এসেছে তোমাকে নিয়ে যেতে। মাম্মা বলেছে আমাকে, এটা তোমার সিক্রেট নেম।

জেনকে আর কথা বলার সুযোগ না দিয়ে যশোয়া এক ছুটে দরজার কাছে চলে এলো। ওর মনেই পড়লো না, একটু আগেই ও বলেছিল, এই বাড়ী ছেড়ে ও আর কোথাও যেতে চায় না।  দরজা ভেতর থেকে বন্ধ বলে ও বাইরে যেতে পারলো না। জেন ও লিন্ডা দুজনেই এগিয়ে গিয়ে যশোয়াকে ওর মা-বাবার হাতে তুলে দিল। এতক্ষণ ছেলেটিকে খুব শক্ত মনে হচ্ছিল, কিন্তু যশোয়াকে কাছে পেয়ে ছেলেটি সবার আগে ভেঙ্গে পড়লো। ছেলেকে বুকে চেপে হাউ মাউ করে কাঁদতে শুরু করলো। কাঁদুক,  আরও কাঁদুক।  এ কান্না সুখের, এ কান্না আনন্দের! এ দৃশ্য বড়ই মধুর! জেনের দু'চোখ আবার ভিজে উঠছে।

এরপর মাত্র ঘন্টাখানেকের ভেতর বাকী পাঁচটি ছেলেমেয়েকে ওদের বাবা-মায়েরা এসে নিয়ে গেলো। অবশ্য বাচ্চা হাতে পাওয়ার আগে প্রত্যেককেই কোড নেম বা তেমনি কিছু একটা প্রমাণ দিতে হয়েছে। জেন যখন ফোন করেছিল ওদেরকে, তখনই প্রিপেয়ারড হয়ে আসতে বলেছিল। সাথে বিনয়ের সুরে এটাও বলেছে, যা কিছু জেন করছে, সবই তাদের বাচ্চার নিরাপত্তার কথা ভেবে। সকলেই রোজেন দম্পতিকে অনেক ধন্যবাদ জানিয়ে বাচ্চা সাথে নিয়ে চলে গেছে।  বাচ্চাগুলো বাবা মায়ের সাথে ফিরে যাওয়ার সময় লিন্ডা প্রত্যেকের হাতে একটা করে ক্রিসমাস গিফটের প্যাকেট ধরিয়ে দিতে ভোলেনি।  যমের চোখ এড়িয়ে আজ সকালে ওরা তাদের  আঙিনায় এসে বসেছিল, লিন্ডার বুকের ভেতরে কান্না গুমরে গুমরে উঠছে। আহারে! ওদের মত করে বাকী বাচ্চাগুলোও যদি এক ছুটে তাদের আঙিনায় চলে আসতে পারতো। ঘরের সমস্ত খেলনা ওদেরকে দিয়ে দিত, আবার আগামী বছরের জন্য খেলনা কেনা শুরু করতো লিন্ডা। এমনি নানা ধরণের উলটাপালটা কথা ভাবছিল আর দীর্ঘশ্বাস ফেলছিল। 

সবাই চলে যাওয়ার পর জেন  রেডী হচ্ছিল তার ক্লিনিকে যাওয়ার জন্য। এমন সময় দরজায় টোকা পড়লো। একবার, দু'বার, তিনবার। জেন একটু অবাকই হলো, কলিং বেল না টিপে কে টোকা দিচ্ছে! আরও কোন বাচ্চা নয় তো!  এমিলি বা এলিস নয় তো! হয়তো কলিং বেলের সুইচ নাগাল পায় নি। এটা মনে হতেই এক দৌড়ে জেন দরজার কাছে গিয়ে কী-হোলে চোখ রাখতেই দেখে অল্প বয়সী এক নারী দাঁড়িয়ে আছে। 

দরজা খুলে জেন জিজ্ঞেস করলো, " বেবী, তুমি কী কাউকে খুঁজছো?

মেয়েটির চোখমুখ দেখেই বুঝা যায়, সে দিশেহারা, চোখ দুটো কেঁদে কেঁদে ফুলে গেছে। গলা দিয়ে আওয়াজ বের হচ্ছে না। জেন কাছে গিয়ে পরম মমতায় জিজ্ঞেস করলো, " তুমি কাকে খুঁজছো? আমি তোমাকে কিভাবে হেল্প করতে পারি!

-আমার ছেলেকে খুঁজে পাচ্ছি না। সকালে ওকে স্কুলে ড্রপ করে গেছি, অফিসে বসেই খবর পেয়েছি স্কুলে গুলী হয়েছে। স্কুলে এসে দেখি পুলিশ ঘিরে আছে। অনেক বাচ্চা মারা গেছে বলে শুনেছি।  যারা সুস্থ আছে, তাদের একজন একজন করে  যার যার মা বাবার হাতে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। আমার ছেলেকে এখনও দেয় নি। ওদেরকে ছেলের নাম বলেছি, ওরা বলে, সবাইকেই এক এক করে আনা হচ্ছে। দুই ঘন্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি, আমার ছেলেকে আনে নি। অনেকেই বলাবলি করছিল, এই বাড়ীতে নাকি কয়েকটি বাচ্চাকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। আমি একটু দেখতে এসেছি, আমার ছেলেটা কি এখানে আছে নাকি!

-মাগো! আমার বাড়ীর আঙিনায় যে ছয়টি বাচ্চা এসেছিল, তাদের সবাইকে বাবা-মায়েরা এসে নিয়ে গেছে। তুমি আবার স্কুলে ফিরে যাও, ছেলেকে ওখানেই পেয়ে যাবে। একটু বেশী সময় লাগছে, এত বড় একটা দূর্ঘটনা সামাল দিতে গিয়ে সকলেই হকচকিয়ে গেছে। আমি বলি, তুমি স্কুলেই পাবে তোমার ছেলেকে। আর যদি তোমার ছেলে অন্য কোথাও গিয়ে লুকিয়ে থাকে, সেখান থেকে ও তোমাকে ফোন করবে। তুমি কিচ্ছু ভেবো না মা। চোখ মোছ, একটু শক্ত হও, বিপদ আসবেই, বিপদ সামাল দেয়াটাই বড় কথা। ভেঙ্গে পড়ো না। তোমাকে একটু বিশ্রাম নিতে বলা আমার কর্তব্য ছিল, কিন্তু তা বলতে পারছি না, তোমার দেরী হয়ে যাচ্ছে। দেখো গিয়ে, হয়তো তোমার ছেলেকে নিয়ে ওরা সবাই তোমার অপেক্ষায় আছে।

মেয়েটি চোখ মুছতে মুছতে চলে গেলো। জেনের বুকটা কেঁপে উঠলো অজানা আশংকায়। এ কেমন সকাল! তার ৬৯ বছরের জীবনে অনেক বিপর্যয় এসেছে, বিপর্যয় কেটেও গেছে, কিন্তু এমন অসহ্য রকমের সকাল এর আগে কখনও আসেনি। ঘরে ঢুকে জেন বাইরে যাওয়ার পোষাক খুলে ফেললো। আজ আর অন্য কোন কাজে মন বসবে না। টিভি অন করাই আছে, কান দুটোকে  সজাগ রেখে জেন টিভির নিউজে মন দিল।

 একটা ছোট্ট ভুল হয়ে গেছে। মেয়েটির ফোন নাম্বার রাখা হয় নি, নাম্বার জানা থাকলে মেয়েটিকে ফোন করা যেতো। বাচ্চাটাকে পেলো কিনা, না জানা পর্যন্ত শান্তি লাগছে না মনটায়। মেয়েটিকে এতটাই বিপর্যস্ত দেখাচ্ছিল যে ওকে একটু আশ্বস্ত করার কথাই মনে এসেছে, ওর ফোন নাম্বার জিজ্ঞেস করার কথা মাথায় আসেনি। জেন মনে মনে প্রার্থণা করতে লাগলো, হে ঈশ্বর, মেয়েটির বুক খালি যেনো না হয়! ও যেনো ওর বুকের মানিককে জীবিত অবস্থায় ফিরে পায়, -আমেন!

টিভিতে একটার পর একটা আপডেট দিয়ে চলেছে। আজ দুপুরে কিছু খাওয়া হয়নি। বাচ্চাগুলো চলে যেতেই লিন্ডা চুপ হয়ে গেছে। দুপুরে প্রেয়ারে বসেছিল,  বাচ্চাগুলো জর্জ আর লিসার বয়সী, খারাপতো লাগবেই।  সারাদিনে আর কেউ আসেনি। 

টিভির সংবাদে  ঘটনাটি মোটামুটি পরিষ্কার হয়ে গেছে। সকালে বাচ্চাগুলো ওদের টিচার মিস সোটোর কথা বলছিল বারবার। মিস সোটো নামের মেয়েটির ছবি বার বার টিভি পর্দায় ভেসে উঠছে। দারুণ প্রাণবন্ত এক তরুণী। নিজের ছাত্রছাত্রীদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছে। আ ব্রেইভ গার্ল!

এ পর্যন্ত বিশটি শিশু মারা যাওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে, তাদের নামগুলো বার বার পড়ে শোনানো হছে। নামগুলো শোনার পর থেকে জেনের হার্ট বীট  বেড়ে গেছে, শরীর অস্থির লাগছে। এক গ্লাস পানি পাওয়া গেলে ভালো হতো, তৃষ্ণায় বুক ফেটে যাচ্ছে। হঠাৎ করেই জেন ডুকরে কেঁদে উঠে।  বিশটি বাচ্চার মধ্যে এমিলি আছে, আরও আছে সকালে আসা সেই দিশেহারা মায়ের ছেলেটি!


 পাদটীকাঃ  গত ১৪ই ডিসেম্বার, শুক্রবারের সকালে কানেকটিকাট রাজ্যের নিউটাউন শহরে অবস্থিত  স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারী স্কুলে  অ্যাডাম ল্যানজা নামের বিশ বছর বয়সী এক তরুণ, দুই হাতে দুই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে। সে প্রথমেই স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল, সাইকোলোজী টিচারকে গুলী করে, তাঁরা তৎক্ষনাৎ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এরপর গুলী ছুঁড়তে ছঁড়তে সে আশপাশের  ক্লাসরুমগুলোতে তল্লাশী চালায়। গুলীর আওয়াজ শুনে বিপদ টের পেয়ে ক্লাস ওয়ানের ক্লাস টিচার  মিস ভিক্টোরিয়া  সোটো ঝটপট তার ক্লাসের বাচ্চাগুলোকে ক্লাসরুমের  ক্লজেটের ভেতর ঢুকিয়ে দরজা টেনে দিয়েছিল। খুনী ল্যানজা মিস সোটোর রুমে ঢুকেই বাচ্চাদের খোঁজ করছিল। মিস সোটো বলেছিল, বাচ্চারা  ঐ দূরের অডিটোরিয়ামে আছে। কিন্তু মিস সোটোর কথা শেষ না হতেই দরজার আড়াল থেকে কিছু বাচ্চা দৌড়ে সামনে চলে আসে। বাচ্চাগুলো প্রাণভয়ে দৌড় দিয়েছিল, কিছু বের হতে পেরেছে, বাকীগুলোর বুক ঝাঁঝরা হয়ে গেছে ল্যানজার গুলীতে। একই সময়ে মিস সোটোকেও হত্যা করা হয়। এর মধ্যেই পুলিশ চলে আসার আলামত টের পেয়ে ল্যানজা নিজের মাথায় গুলী করে। পুলিশ এসে ক্লজেটের ভেতর থেকে লুকিয়ে থাকা বাচ্চাদের বের করে নিয়ে আসে। সংবাদে আরও জানা যায়, মিস সোটোর রুমে প্রবেশ করার আগে ল্যানজা আরেকটি ক্লাসরুমে ঢুকে ক্লাস টিচারসহ পনেরটি বাচ্চাকে মেরে ফেলে।  মিস সোটোর রুম থেকে যারা পালাতে পেরেছিল, তারাই আজ জেন রোজেনের বাড়ীতে  আশ্রয় নিয়েছিল। স্কুলটিতে প্রবেশ করার আগে সে নিজ বাড়ীতে তার মা'কে গুলি করে হত্যা করে।




Comments
0 Comments

No comments:

Blogger Widgets
Powered by Blogger.