>

অরুণ চট্টোপাধ্যায়

SONGSOPTOK THE WRITERS BLOG | 3/10/2015 |



শক অ্যাবজর্বার স্যুট
বেশ কিছুকাল আমাদের সকলের খুব প্রিয় ডাঃ গৌতম মানে গৌতম বৃদ্ধ কিছু আবিষ্কার করে উঠতে পারেন নি । শরীরটা বেজুত হয়ে ছিল । শরীরের আর দোষ কি ? এতবড় বিজ্ঞানী কিন্তু তবু ভারতরত্ন পেলেন না বলে মন খারাপ করে পড়ে ছিলেন । আর মন যেহেতু শরীরকে চালায় তাই তাঁর শরীরও বেজায় খারাপ হয়ে পড়েছিল । একদিন রাস্তা হাঁটার সময় অন্যমনস্কতার সুযোগে একটা গাড়ী তাকে একেবারে পিষে দিচ্ছিল আর কি । গাড়ির দোষ কি । সে তো তার নিজের রাস্তা দিয়েই যাচ্ছিল । কিন্তু ডাঃ গৌতমই গাড়ির রাস্তায় নিজেকে এনে ফেলেছিলেন ।  অতি কষ্টে বেঁচেছেন । রাস্তা পার হবার সময় একটা মোটর গাড়ী প্রচন্ড বেগে আসছিল কিন্তু তিনি দেখতে পান নি । পথচারী একজন দারুণ প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব দেখিয়েছিল । তাঁর হাতটা খপ করে ধরে জোরে এনে ফেলেছিল এদিকের ফুটপাথে । একটু চোট লেগেছিল বটে তবে প্রাণে বেঁচেছেন এই ঢের । কৃতজ্ঞতায় একেবারে গলে গিয়ে হাত দুটো ধরে ফেলেছিলেন সেই দ্বিতীয় জন্মদাতার।
- আপনাকে যে কি বলে –
- থাক থাক আর কিছু বলতে হবে না । ভদ্রলোক একটু বিরক্ত হয়ে বললেন, আর একটু হলেই তো প্রাণটা যাচ্ছিল নয় তো সারা শরীরে মাল্টিপল ফ্রাকচার । হাড় মাস সব একাকার । একটু দেখে পেরোতে পারেন না রাস্তাটা ?

লজ্জিত আর অপ্রস্তুত একটা মানুষ । ভীতও বটে খুব । সেই মুহূর্তে কল্পনায় মাল্টিপল ফ্রাকচারওলা একটা মানুষকে খোঁড়াতে দেখলেন ডাঃ গৌতম । আর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সারা শরীরের সব লোম খাড়া হয়ে উঠল । ভয়ে আর ভাবনায় । এই বুড়ো বয়েসে মাল্টিপল ফ্রাকচারের ঝক্কি কম নাকি ? একা থাকেন বিছানার পড়ে থাকলে কে সামলাবে ?

জানেন আমাদের সেই ভ্যান চালকের কথা ? সেই উদ্ধারকর্তা বললেন ।
ডাঃ গৌতম বোকার মত ফ্যালফ্যাল করে খানিক চেয়ে আস্তে আস্তে ঘাড় নাড়লেন । তার মানে তিনি জানেন না ।

- সে তো তিনমাস পরে মারা গেল, ভদ্রলোক কোনও ভনিতার ধারই ধারলেন না । সরাসরি বলতে শুরু করলেন, বাসে ধাক্কা লেগেছিল । ভ্যানটা বাসের চাকার তলায় পিষে গিয়েছিল । কেউ আর চিনতে পারে নি । লোকটার ভাগ্য ভাল সঙ্গে সঙ্গে মরে নি । ছিটকে গিয়ে পড়েছিল একটা দেওয়ালে । শিরদাঁড়ায় লেগেছিল মশাই । একেবারে স্পাইন্যাল কর্ডে । রক্ত জমে গিয়েছিল । একেবারে জীবন্মৃত হয়ে পড়েছিলেন । কথা নেই বার্তা নেই মুখটা শুধু যন্ত্রণায় নীল থাকত সারাক্ষন

ডাঃ গৌতমেরও একই অবস্থা । মানে মনে মনে যেন তিনি জীবন্মৃত । মাঝে মাঝে শিউরে উঠছেন । কেঁপে কেঁপে উঠছে সারা শরীর ।
ঘড় ঘড় করে একটা মোটর বাইক এসে থামল ।
- আসুন দাদু আপনাকে বাড়ি পৌঁছে দি ।
পথচারী আর একজন ইতিমধ্যেই খুব সকরুন হয়ে এসে তাকে বাড়ি পৌঁছে দিতে চাইছে । তিনি তো আপ্লুত । বিগলিত হেসে বললেন, বাড়ী পৌঁছে দেবেন ? চেনেন আমায় ?
মোটর বাইকের যুবক হাসল, পাঁচ পাঁচ খানা “একান্ত ব্যক্তিগত” আবিষ্কার করে আমাদের ধন্য করেছেন দাদু । আর আমরা আপনাকে চিনব না ?

ছেলেটির প্রতি বেশ কৃতজ্ঞ হয়ে পড়লেন ডাঃ গৌতম । চেনে দেখছেন তাঁকে । আবার তাঁর “একান্ত ব্যক্তিগত”-র খবরও রাখে । কিন্তু তাঁর বড় পরিতাপ দেশের সরকার তাঁকে চিনল না । দিল না তাঁর প্রতিভার মূল্য ।

- আপনি পেছনে বসুন দাদু । আর বলুন আপনার বাড়ীর ঠিকানা । আমি পৌঁছে দিচ্ছি ।
ডাঃ গৌতম খুশি হলেন কিন্তু তবু মনের সন্দেহটা একেবারে গেল না । একটু আগেই একটা গাড়ি তাঁকে পিষে দিতে চেয়েছিল । হাজার হলেও মোটর বাইক একটা গাড়ী তো বটে । একটু ভয় ভয় করতে লাগল কিন্তু কাটানো যায় কি করে । বেচারা তাঁর মানে তাঁর “একান্ত ব্যক্তিগত”-র ভক্ত যে । তাকে তো আর এমনি এমনি বিমুখ করা যায় না । তাছাড়া হাঁটতে গিয়েও যদি গাড়ীর ধাক্কা লাগে তো বাইকে চাপা আর কি দোষের ?
তবু কুন্ঠা । বললেন, মানে – আবার যদি একটা –

- আরে না না । যুবকটি আশ্বস্ত করল, অ্যাক্সিডেন্টের ভয় নেই দাদু । আমার গাড়ি বেশী লাফায়ও না । ডোন্ট ওরি ।
একটু আশ্বস্ত হয়ে বসলেন বাইকের পেছনে । ভয় ভয় যে করল না তা নয় । রাস্তাটা বেশ উঁচু নীচু এবড়ো খেবড়ো । এ রাস্তায় ক’বার রিক্সায় চেপে এসেছেন । বেশ কয়েকবার অটোতেও । খুব ঝাঁকুনি হয় । পেটের নাড়িভুঁড়ি যেন ডিগবাজি খেতে থাকে । শরীরের দু’শ ছ’ খানা হাড় নিজেদের মধ্যেই লড়াই করতে থাকে ।

- বাঃ এত খারাপ রাস্তা কিন্তু গাড়ি নাচছে না তো ভাই ।
সত্যি বাইকে ঝাঁকুনি তেমন নেই বললেই চলে । দিব্বি মজায় যেন দোল খেতে খেতে চলেছেন । খুব ভাল লাগছিল খোলা গাড়িতে এই যাওয়াটা ।

একটা টোটোর পেছনে ধাওয়া করে তাকে ওভারটেকের ধান্দায় ছিল বাইকটা । টোটোগুলো বড় বিরক্তিকর । যাবেও না আবার যেতেও দেবে না । যেতে দেবে কি করে ওর গতিবেগ যে ঘন্টায় তিরিশ কিলোমিটারে বাঁধা । ইঞ্জিন যে করেছে সেই নাকি বেঁধে দিয়েছে গতিটা । মানে গাড়ির কোম্পানী আর কি । ব্যাটারিতে চলে তাতে আওয়াজেরও জোর নেই । নিমোনিয়া পেসেন্টের মত বুকের একটা সাঁই সাঁই আওয়াজ । কোথা থেকে আওয়াজটা আসছে খুঁজে বার করতে না করতেই গাড়ীটা স্বয়ং আপনার একেবারে সামনে । টোটোটাকে ওভারটেক করে নিয়ে ডাঃ গৌতমের প্রশ্নের উত্তর দিল ছেলেটি ।
- আমার গাড়িতে ঝাঁকুনি কম দাদু ।  
ডাঃ গৌতম জিজ্ঞেস করলেন স্বাভাবিক কৌতূহল বশে, কেন ভাই ?
- আপনি জানেন না ?
- না, সত্যি বলছি ।

- কেন আবার ? ছেলেটা বলল, এই যে দেখুন পেছনে সামনে রয়েছে জব্বর শক অ্যাবজর্বার । এই যে দেখছেন দুটো টিউবের মত আছে এগুলোকে বলে শক অ্যাবজর্বার গাড়ি যতই লাফাক আপনার কিন্তু লাগবে না ।

এতক্ষনে বেশ ভাল নজর পড়ল ডাঃ গৌতমের । আরও ভাল করে দেখার ইচ্ছে হতেই ছেলেটা বলল, এখন বেশী নড়াচড়া করবেন না দাদু । গাড়ী থামলে দেখে নেবেন ।গাড়ি থামল । ডাঃ গৌতম গাড়ি থেকে নেমেই ঝুঁকে পড়লেন দেখতে । বিষয়টা যতক্ষন না ভাল করে পর্যবেক্ষণ করছেন ততক্ষন পেটের খাবার হজম হচ্ছে না যেন। ওপরে নীচে করে দুটো ধাতব টিউব ।

- ওর ভেতরে আছে শক্ত ষ্টীলের স্প্রিং । ছেলেটা বলল, গাড়ীটা লাফালে ঐ স্প্রিং দুলুনি দেয় আর ধাক্কাটা লাগতে দেয় না লোকের গায়ে । বুঝতে পারছেন দাদু ? দাদু তো বুঝতে পারছেন ঠিক । আর এও বুঝতে পারছেন যে আবার তাঁর ধ্যানের সময় এসে গেল । সেই ধ্যান যা  তাঁকে আর জগতকে এ পর্যন্ত পাঁচ পাঁচটা ‘একান্ত ব্যক্তিগত” উপহার দিয়েছে । এই ছেলেটা তাঁকে মোটরবাইক চড়িয়ে এনে বড় ভাল কাজ করেছে । তাঁর তো বটেই সারা জগতেরও বটে । কারণ এই যে গাড়ীর শক অ্যাবজর্বার দেখলেন তাতেই আবার তাঁর ধ্যানে বসার ইচ্ছে হয়েছে আর তাঁর প্রত্যেক বার ধ্যানের শেষে একটা না একটা কিছু উপহার দিয়েছেন জগতকে ।

আবার সেই বটগাছ । সেই লাল শান বাঁধানো চত্বর । ডাঃ গৌতম বসেছেন ধ্যানে । পাক্কা তিনমাস পরে ধ্যান ছেড়ে উঠেই চললেন কোলকাতায় । প্রেস ক্লাবে ডাকলেন প্রেস কনফারেন্স । জব্বর এক কনফারেন্স । ছোটবড় সব কাগজের রিপোরটারে একেবারে গিজ গিজ করছে ।

ডাঃ গৌতম আর তাঁর আবিষ্কারের ব্যাপারে কে আর কিছু না জানে । তাই সকলেই গরম গরম খবরটা পরিবেশন করতে চায় । সকলেরই খুব কৌতূহল আবার কি সাংঘাতিক এক চমকপ্রদ আবিষ্কার করে জগতকে একেবারে মন্ত্রমুগ্ধ করবেন কে জানে । ডাঃ গৌতম এক সুন্দর পোশাক পরেছেন আজ । একটা টাইট ফুলপ্যান্ট আর একটা ধুসর রঙ্গের গেঞ্জি । সাধারণত তিনি কখনও গেঞ্জি জাতীয় কিছু পরেন না । পরেন শার্ট । কিন্তু আজ পরেছেন । কেন পরেছেন তা হয়ত অবিলম্বে ব্যাখ্যা করবেন তাই সব সাংবাদিক চোখ আর কান খাড়া করে আছে । আর নোট বই আর পেন একেবারে রেডি । চিত্র সাংবাদিকদের ক্যামেরা এমন কি নিউজ চ্যানেলের ওবি ভ্যান সব একেবারে প্রস্তুত । 

একজন মাইকে এলেন । বললেন, আজ স্বনামধন্য ডাঃ গৌতম তাঁর নবতম আবিস্কারটির কথা জানাবার জন্যে আপনাদের এখানে ডেকেছেন । মাইকে এলেন ডাঃ গৌতম । বললেন, আমি কিছু বলব না । শুধু দেখাবআপনারা কেবল দেখুন - দেখে যান । তারপর যা জিজ্ঞেস করার করবেন । ডায়াস ছেড়ে নীচে এলেন । তাঁর ইঙ্গিতে এগিয়ে এল চার চারটে পালোয়ান গোছের লোক । হাতে সকলেরই বক্সিং গ্লাভস ।

কিন্তু এ কি করছেন তিনি ? সবাই আশ্চর্য হয়ে গেল । লোকটা কি গবেষণা করতে করতে শেষে পাগল হয়ে গেল নাকি ? কেউ বলল, বিজ্ঞানীরা তো পাগলই হয় । কেউ পাগল হয়ে গবেষণা করে আবার কেউ গবেষণা করতে করতে পাগল হয় । কিন্তু পাগলামিটা কি ? ডাঃ গৌতমের ইঙ্গিতে সেই চারটে পালোয়ান চার দিক থেকে মারতে লাগল তাঁকে । একেবারে এলোপাথাড়ি । কিল চড় ঘুসি । আবার দুচারটে থাপ্পড় টাপ্পড় । বেশ মনের সুখে । শেষ হতেই লোহার বড় বড় হাতুড়ি । শাবল, গাঁইতি কি নয় । ছুরি, কাটারি এমন কি তলোয়ারের কোপ পর্যন্ত । আবার হলের বাইরে নাকি অপেক্ষা করছে একটা মোটর বাইক তাঁকে ধাক্কা মারার জন্য ।

আর ডাঃ গৌতম ? তিনি কি গবেষণায় অসফল হয়ে শেষে আত্মহত্যার এই পথ বেছে নিয়েছেন ? এতগুলো পালোয়ানের এই মার কতক্ষন আর সহ্য করবেন নিরীহ ঐ ষাটোর্ধ বিজ্ঞানী ? তা পারলেও ঐ বাইক মানে যন্ত্র-দানবটার ধাক্কা – যেন স্বয়ং যমদূতের মুশলাঘাত । সাংবাদিকরা রুখে দাঁড়াল, থামান আপনার এই পাগলামি । না হয় ফেল করেছেন একটা গবেষণায় ? তাতে কি ? আবার এগিয়ে যাবেন কিছুদিন পর । রবার্ট ব্রুশের উদাহরণ তুলে ধরল একজন রিপোর্টার । এই রকম এক একজন এক একটা । যে কোনও ভাবেই হোক না কেন নিরস্ত করতে হবে পাগলা বিজ্ঞানীকে ।

কিন্তু ডাঃ গৌতম ? হাসছেন এই এত মার খাবার পরেও । ওস্তাদের মার নাকি শেষ রাত্রে । কিন্তু এই দিনে দুপুরেই বেশ দেখা গেল শেষ মারটা। বাইরে ফাঁকা জায়গায় এলেন ডাঃ গৌতম । একটা বাইক প্রচন্ড গতিতে এগিয়ে আসার জন্য প্রস্তুত হল । মনে হয় সরাসরি ধাক্কা মারবে । মারলও ধাক্কা । একেবারে সপাটে – একশ কুড়ি কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা বেগে । সবাই ভাবছে এবার বুঝি সকলকে হেঁট হয়ে কুড়োতে হবে ডাঃ গৌতমের দেহের ছোট্ট টুকরো গুলোকে । পার্টসগুলোকে খুঁজতে হবে অনেক মেহনত করে ।

কিন্তু না । মাথা উঁচু করে সোজা সামনে তাকিয়ে হাসছেন ডাঃ গৌতম । কি মোলায়েম হাসিখানা । যেন সাতরাজার ধন এক মাণিক পেয়েছেন তিনি । এবার তাঁর পরণের প্যান্ট আর টাইট গেঞ্জীর রহস্য ফাঁশ করলেন ভদ্রলোক । পাশ থেকে তুলে নিলেন ঠিক আর একটা সেটএগুলো দেখতে সাধারণ হলেও মোটেই সাধারণ নয় ।

- আইডিয়াটা বাইকের শক অ্যাবজর্বার দেখেই মাথায় এসেছিল । বললেন, ডাঃ গৌতম, এই দেখুন ।রিমোটের বোতাম টিপতেই দেওয়ালে টাঙ্গানো স্ক্রিনে দেখা গেল প্যান্ট আর শার্টের ভেতরের সব কিছু । ছোট্ট ছোট্ট স্প্রিং দিয়ে তৈরি । ছোট্ট কিন্তু ভীষণ শক্তিশালী । ঠিক যেন গাড়ির শক অ্যাবজর্বারের ছোট্ট ছোট্ট কপি । গাড়ীর ছোটখাটো ধাক্কা দূরে থাক বড়সড় ধাক্কাও অনায়াসে সামলে দিতে পারে এই শক অ্যাবজর্বার স্যুট। শুধু প্যান্ট শার্টই নয়, রয়েছে পায়ের জুতো আর মাথার হেলমেট পর্যন্ত । জুতো তো জুতোর মতই কিন্তু হেলমেটকে হেলমেটের মত নয় বরং দেখতে অবিকল আপনার মাথারই মত । অতি সূক্ষ্ম আর স্বচ্ছ । আর অবাক কান্ড প্যান্ট শার্ট জুতো বা হেলমেটই হোক সব কিছু দিয়ে দিব্বি হাওয়াও গলে যেতে পারে । গরমের ভয় নেই এতটুকু ।

সুতরাং রাস্তায় বেরিয়ে পথ দুর্ঘটনার ভয় ? কখন কোন ফাঁকে একটা গাড়ী এসে ধাক্কা দেয় কি পেছন থেকে পাগলা ষাঁড় এসে গুঁতোবার ভয় ?  উঁহু ডাঃ গৌতম আর তাঁর “একান্ত ব্যক্তিগত” থাকতে কখনও নয়, কখনও নয় – কভি নেই
১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

[অরুণ চট্টোপাধ্যায়]





Comments
0 Comments

No comments:

Blogger Widgets
Powered by Blogger.