>

মৌসুমী ঘোষ দাস

SONGSOPTOK THE WRITERS BLOG | 7/15/2015 |



সংশপ্তক:  বিবাহটা চিরজীবনের পালাগান; তার ধুয়ো একটামাত্র, কিন্তু সংগীতের বিস্তার প্রতিদিনের নব নব পর্যায়েবলেছিলেন রবীন্দ্রনাথ তাঁর শেষবেলাকার গল্প চোরাই ধনে। যে যুগে কবি এই ধারণার তত্ত্ব তুলে ধরেছিলেন, ভিক্টোরিয়ান রোম্যান্টিক যুগচেতনায় লালিত জীবনবোধের আলোতে, আমাদের এই একবিংশ শতকের সময়চেতনায় সেই যুগের বাণী কতটা প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয় আপনার?
মৌসুমী:  চোরাই ধন গল্পে রবীন্দ্রনাথ দেখিয়েছেন কিভাবে প্রতিদিন নব নব পর্যায়ে দাম্পত্য সম্পর্ককে  আরও সুস্থ, সুন্দর ও মজবুত করে  এগিয়ে নিয়ে যাওয়া  যায়।  
                                  সেই যুগের বানী এ যুগে ততটা প্রাসঙ্গিক কি না সে ব্যাপারে বলতে গেলে বলা যায় , সেটা যার যার মানসিকতার উপর নির্ভর করে।  এখনো  বেশ কিছু সংখ্যক স্বামী- স্ত্রীর মধ্যে এই প্রতিদিনের নতুন ভাবে দাম্পত্যকে সুস্থ, সুন্দর, ও রোমান্টিক ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবার প্রচেষ্টা দেখা যায়। আবার এমনও দেখা যায়  বিবাহের দু-এক বছরের মধ্যেই দাম্পত্য সম্পর্কটা তিক্ত হয়ে ওঠে।
         কিন্তু সারাজীবন ধরে দাম্পত্যে নতুনত্ব টিকিয়ে রাখতে পারলে তো অবশ্যই ভাল। একটা সুস্থ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে এটুকু করা যেতেই পারে।   তবে এখন মানুষ ঘরে বাইরে অনেক বেশি ব্যস্ত। মেয়েরাও সে যুগের মতো অতো স্বামী মুখাপেক্ষী নয়। তাছাড়া এ যুগে বিনোদনের অনেক ব্যবস্থা রয়েছে। তাই বিশেষ যত্ন নিয়ে ‘চোরাই ধন’  গল্পের স্ত্রীর মত কেবলমাত্র স্বামীর  বিনোদন নিয়ে অত চিন্তা করার সময় ও নেই স্ত্রীদের

সংশপ্তক:  নরনারীর পারস্পরিক অন্তরঙ্গ নিবিড় সম্পর্কের  মূল রসায়নটা ঠিক কি বলে মনে করেন আপনি? বিবাহ নামক সামাজিক  প্রতিষ্ঠান কি সেই রসায়নের উপরেই দাঁড়িয়ে থাকে?
মৌসুমী:  নরনারীর পারস্পরিক  অন্তরঙ্গ নিবিড় সম্পর্কের মূল রসায়নটা হল   উভয়ের নিঃশর্ত বোঝাপড়া। যে বোঝাপড়ার কোন পরিসীমা নেই। দুজনার  গভীর শারীরিক ও মানসিক প্রেম, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালবাসা, বিশ্বাস। পরস্পরকে যথাযথ পরিসর দিয়ে পরস্পরের  সমব্যথী, সহমর্মী, সবচেয়ে ভাল বন্ধু হওয়া
                        বিবাহ নামক সামাজিক প্রতিষ্ঠানটা  এই রসায়নের  উপরেই দাঁড়িয়ে থাকা উচিত। কিন্তু এই যুগে খুব অল্প সংখ্যক বিবাহই এই রসায়নের উপর টিকে আছে। আর এখনকার  বেশীরভাগ বিবাহই কোনোরকমে টিকিয়ে রাখতে হয় বলে টিকে আছে।  নয়তো বা ভেঙে যাচ্ছে।

সংশপ্তক:  দাম্পত্য সম্পর্ককে সুস্থসবল সজীব করে রাখার মূল শর্ত্তগুলি আপনার মতে কি কি?
মৌসুমী:  শারীরিক ও মানসিক প্রেম, একে অপরকে শ্রদ্ধা, পরিসর দেওয়া, দায়িত্ব পালন, একে অপরের সুখ-দুঃখ কে অনুভব করা , সহমর্মিতা এবং পরস্পরের প্রতি  বিশ্বাস।

সংশপ্তক: আমাদের সমাজ বাস্তবতায় দেখা যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সুখী গৃহকোণ গড়ে ওঠে, দাম্পত্য সম্পর্কের আঙিনায় দুইজনের মধ্যে কোনো একজনের ব্যক্তিত্বের কাছে আর একজনের আত্মসমর্পণের ভিত্তিতেই। এইটা কি আদৌ কোনো  আদর্শ পথ বলে মনে করেন আপনি? বিশেষ করে যেখানে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সংসারের মুখ চেয়ে স্ত্রীকেই আত্মসমর্পণ করতে হয় স্বামীর কাছে, বা আরও স্পষ্ট করে বললে পুরুষতন্ত্রের কাছে?
মৌসুমী:  আমি মনে করি আত্মসমর্পণ কথাটার অর্থ একজন শক্তিশালী ব্যক্তির কাছে একজন অতি দুর্বল ব্যক্তির কোনোরকমে টিকে থাকা।  এটা কোন সুস্থ সম্পর্ক নয়।  আত্মসমর্পণ না বলে সেটাকে অভিযোজন বা মানিয়ে চলা বলা ভাল।   একজনের ব্যক্তিত্বের  কাছে আর একজনের নতি স্বীকার মোটেই কোন আদর্শ পথ নয়।
           বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়  সংসারে স্ত্রীকেই  মানসিকভাবে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে , কখনো বা  আংশিক নিঃস্ব হয়ে এই অভিযোজনটা বেশি করতে হয়। তবে খুব কম সংখ্যক হলেও কিছু স্বামীও স্ত্রীর ব্যক্তিত্বের সাথে অভিযোজন  করতে বাধ্য হয়।  তবে কোন একজনের অভিযোজন ছাড়া  কখনই  গৃহকোণ গড়ে ওঠে না।

সংশপ্তক:  বিশ্ববিখ্যাত সাহিত্যিক টলস্টয় তাঁর গল্প খ্রয়েৎসার সনাটায় (THE KREUTZER SONATA) বলেছেন “…a marriage without love is no marriage at all, that only love sanctifies marriage, and that the only true marriage is that sanctified by love” এখানেই প্রশ্ন জাগে এইটাই তো হওয়ার কথা, আর সেইক্ষেত্রে বিবাহের পরিণতি তো কখনোই বিয়োগান্ত হতে পারে না! তবে  সমাজে এত বিবাহ-বিচ্ছেদের বারবাড়ন্ত কেন?
মৌসুমী:   এখন দেখা যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই  বিবাহের কিছু দিন বা কিছু বছর পরে সেই ভালবাসার পবিত্রতা আর থাকে না।  কারণ দোষ- গুণ দুটোই নিয়ে  যে কোন ব্যক্তির চরিত্র গড়ে ওঠে।  এবার একসঙ্গে থাকতে থাকতে সেই ত্রুটি গুলো যেন খুব বেশী করে ধরা পরে একে অপরের  কাছে
                      তাছাড়া উভয়ের মধ্যে শুরু হয় ইগোর  লড়াই। সেই নিয়ে তখন অশান্তির শুরু। বিবাহের পর প্রথম দিকে একে অপরকে ছাড়া যেন আর কিছুই চাওয়া পাওয়া থাকে না। কিন্তু কিছুদিন গেলেই সেই মোহটা কেটে যায়। তখন সেই ভালবাসার পবিত্রতা  একটু একটু করে  কমতে থাকেআর সেখানে পার্থিব চাওয়া পাওয়া টা বেশী এসে যায়। আর সেটা না মিটলে, বা মানিয়ে নিতে না পারলেই বিবাহ-বিচ্ছেদের পথে  যায়।

সংশপ্তক: সাধারণভাবে বিবাহ বলতেই আমরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকেই বুঝিয়ে থাকি। এই যে একটি সম্পর্কের বন্ধন বা শৃঙ্খল এবং তাতে আজীবন আবদ্ধ থাকার প্রাথমিক অঙ্গীকার, সেই শৃঙ্খলই কি কোন এক সময় দাম্পত্যের পরিসরটিকে সঙ্কুচিত করে তুলে একটা দমবন্ধের পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে, যা অধিকাংশ বিবাহবিচ্ছেদের মূলে ক্রিয়াশীল থাকে বলে মনে হয় আপনার?
মৌসুমী:  এখন বেশীরভাগই ছোট পরিবার । সেখানে একে অপরকে আঁকড়ে থাকার প্রবণতাটা বেশী। এই আঁকড়ে থাকতে থাকতে একদিন একঘেয়েমি আসতেই পারে। তাছাড়া স্বামী স্ত্রী দুজনের একসাথে আজীবন পথ চলার প্রাথমিক অঙ্গীকারটা  যখন অধিকারে পরিণত হয়, তখনই ধীরে ধীরে একটা দমবন্ধ পরিবেশ  গড়ে ওঠে। কারণ আমরা সবাই একটু পরিসর বা স্পেস পেতে চাই। সব সময় এই অধিকার বোধ থেকে  আমাদের সব ব্যাপারেই নাক গলানোটা আমরা সহজে মেনে নিতে পারি না। এই বিষয়টাও বিবাহ বিচ্ছেদের মূলে বলে মনে করি।

সংশপ্তক:  সাধারণ ভাবে বিবাহ বলতে দুটি নরনারীর এক সাথে বসবাস ও বংশরক্ষা, সংসারধর্ম পালন বলেই বুঝে থাকি আমরা।  কিন্তু এই সামান্য জৈবিক পরিসরেই তো বিবাহের সার্থকতা পূরণ হতে পারে না! দুজন মানুষের মানসিক, শারীরীক, মনস্তাত্বিক ও আত্মিক সত্ত্বাগত মিলন ছাড়া তো বিবাহ সম্পূর্ণ হতে পারে না!  বর্তমান সমাজ সংসারের প্রেক্ষিতে দুইজন মানুষের এই সত্ত্বাগত মিলন কতটা বাস্তবিক সম্ভব বলে মনে করেন আপনি?
মৌসুমী:  অতীতে বিবাহ ছিল বংশরক্ষা, ও সংসারধর্ম পালনের উদ্দেশ্যে। তখন মানুষের মানসিকতাও সেভাবে গড়ে উঠত। নারীকে ছোট থেকেই সেই ভাবে শেখানো হত, যে তোমার কাজ হল সন্তান উৎপাদন করা ও সংসারের সকলের সেবা করা।
                                      কিন্তু পরবর্তী কালে দিন যত এগিয়েছে, মানুষের বিশেষত মেয়েদের শিক্ষা, চেতনা, মনন সব পাল্টেছে। তার নিজস্ব মতামত তৈরি হয়েছে। মেয়েরা ছেলেদের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে বাইরেও কাজ করছে। এখন এমনও দেখা যায় যে বিবাহ হয়েছে, কিন্তু সন্তান উৎপাদন  করতে উভয়েই  চায় না। নিজেদের কর্ম জগত নিয়ে খুশীতে মেতে আছে।  দুজনার চাহিদাও আগের থেকে অনেক পাল্টেছে। এই পরিবর্তনের যুগে যদি স্বামী- স্ত্রী নিজেদের অভিযোজিত করতে না পারে তাহলে সেই সম্পর্ক না টিকে থাকাটাই স্বাভাবিক।

সংশপ্তক: বর্তমান সমাজ বাস্তবতায় পারস্পরিক সম্পর্কের আঙিনায় ব্যক্তিত্বের সংঘাত একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলেই মনে হয়বিশেষ করে দাম্পত্যের পরিসরে তো বটেই। আজ থেকে প্রায় একশ বছর আগে তার লেডি চ্যাটার্লিজ লাভারউপন্যাস প্রসঙ্গে লরেন্স এক জায়গায় বলেছিলে, “The modern cult of personality is excellent for friendship between sexes, and fatal for marriage” অর্থাৎ ব্যক্তিত্বের স্ফূরণকেই তিনি সফল দাম্পত্যের অন্তরায় বলে মনে করছেন। নাকি দাম্পত্যের পরিসরে নারীর স্বাধীন ব্যক্তিত্বের স্ফূরণকে পুরুষতন্ত্র মেনে নিতে অপারগ বলেই  দাম্পত্যে এই আধুনিক সংঘাতের সৃষ্টি বলে মনে হয় আপনার?
মৌসুমী:  নারীর স্বাধীন ব্যক্তিত্বের স্ফুরণের জন্য  সব দাম্পত্যেই যে ভাঙন ধরে সে কথা আমি মানি না। এমন অনেক দেখা যায় যে, স্বামীর অনুপ্রেরণায়  স্ত্রী স্বামীর থেকে অনেক বেশি সফল।
              যে সব পুরুষ নারীর স্বাধীন ব্যক্তিত্বের স্ফুরণকে মেনে নিতে পারে না, মনে মনে ঈর্ষা করে , নারীকে নিজের সম্পত্তি বলে  মনে করে  সেখানেই সংঘাতের সৃষ্টি হয়।

সংশপ্তক:   একজন বিবাহ বিচ্ছিন্না নারী ও বিবাহ বিচ্ছিন্ন পুরুষকে সমাজ কি একই চোখে দেখে বলে মনে করেন আপনি? বাস্তব অভিজ্ঞতায় কিন্তু দেখা যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্ত্রীর সম্বন্ধেই দোষারোপ করা হয় মানিয়ে নিয়ে চলতে না পারার জন্যেই! অর্থাৎ ধরেই নেওয়া হয় যে সফল দাম্পত্যের অন্যতম শর্ত হল নারীর এই মানিয়ে নিয়ে চলার ক্ষমতা, যা অন্যদিক দিয়ে পুরুষতন্ত্রের কাছে বশ্যতা স্বীকারেরই নামান্তর। এই বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন কি?
মৌসুমী:  না, কখনই সমাজ  এক চোখে দেখে না। সমাজ প্রথমেই নারীর দিকে আঙুল তোলে ।  তবে সেটা সমাজের সীমাবদ্ধতা। আগে তো নারী পুরুষের অত্যাচার সহ্য করেও কোনোরকমে সংসারে টিকে থাকতো, তার যাওয়ার কোন জায়গা ছিল না বলে।
                       কিন্তু এখন যুগ পাল্টেছে। অধিকাংশ নারী স্বাবলম্বী হয়েছে। সে আর ভালবাসা হীন সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় না। সমাজকেও তোয়াক্কা করে না।  তবে এর ব্যতিক্রমও দেখা যায়। অর্থনৈতিক ভাবে স্বাধীন এমন অনেক নারীও কেবলমাত্র সন্তানদের কথা ভেবে পুরুষতন্ত্রের কাছে বশ্যতা স্বীকার করে  কোনোরকমে সংসারে টিকে থাকে।

সংশপ্তক: দাম্পত্য সম্পর্কের ভাঙন সন্তানদের চেতন অবচেতনে কি একটা অনিশ্চিয়তার জন্ম দেয় না? সেই অনিশ্চিয়তা যদি তাদের সারা জীবন তাড়া করে বেড়ায় তবে তাদের পরবর্তী জীবনে তার প্রভাব কতটা সদর্থক বা নঙর্থক হয় বলে মনে হয় আপনার?
মৌসুমী:     হ্যাঁ নিশ্চয়ই সন্তানদের চেতন অবচেতনে অনিশ্চয়তার জন্ম দেয়। সে সন্তানের সঠিক ব্যক্তিত্ব বিকাশ হয় না।
                                সে সন্তান একটা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে সারাজীবন । বন্ধু বান্ধবদের বা অন্যান্য পরিচিতদের কাছে মা বাবার বিবাহ ভাঙন সম্পর্কিত প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে  অস্বস্তি বা হীনমন্যতায় ভোগে।  নিজেকে গুটিয়ে রাখে।
               আবার অনেক ক্ষেত্রে এমনও হয়, সেই সন্তান খুব একরোখা, জেদি, বড় হয়ে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হবার প্রবণতা দেখা যায়।
                  আবার ভাল দিক ও দেখা যায় যেমন, ছোট থেকে  চোখের সামনে মা বাবার সম্পর্কের তিক্ততা, ভাঙন দেখে, তখন হয়তো সে ভাবে আমি বড় হয়ে মা বাবার মত এমন করবো না। যেমন করেই হোক বিবাহ সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখবো। পুরো বিষয়টাই নির্ভর করে সন্তানের ব্যক্তিত্ব বিকাশের ওপর।

সংশপ্তক: সাধারণ ভাবে দেখা যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিবাহবিচ্ছিন্ন দম্পতিদের মধ্যে সন্তানের দায়িত্ব স্ত্রীই বহন করেন। সন্তানের গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে মার সাহচর্যই অধিকতর প্রয়োজনীয় হলেও শিশু মনে পিতার অভাব কি ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে? সেই ক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকা কি হওয়া উচিত বলে মনে করেন আপনি?
মৌসুমী:  আমাদের সমাজে সাধারণভাবে একটি নাবালক সন্তানের দায়িত্ব স্ত্রীই বহন করেন। কারণ এই বয়সী সন্তান বাবার চেয়ে মায়ের কাছে থাকতেই বেশী নিরাপদ মনে করে।  
                        একটি সুস্থ দাম্পত্য জীবনে যে সন্তান বেড়ে ওঠে তার ব্যক্তিত্ব বিকাশ হয় সম্পূর্ণ রূপে। কারণ, সন্তান মায়ের কাছ থেকে পায় কমনীয়তা আর বাবার কাছ থেকে পায় বহির্জগতে টিকে থাকার কাঠিন্য বা চ্যালেঞ্জ নেবার ক্ষমতা কিন্তু যে সন্তান বেড়ে ওঠার সময় পিতার অভাব বোধ করে তার ব্যক্তিত্ব বিকাশে কখন কখন সেই  কাঠিন্যের অভাব দেখা যায়। বা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা তৈরি হয় না। । 
                          সেই ক্ষেত্রে মায়ের ভুমিকা পালন খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায় । একধারে মা আরেকধারে বাবার ভুমিকা পালন করতে  সব নারীর পক্ষে  সম্ভব হয়ে ওঠে  না।

সংশপ্তক:  আমাদের সমাজে বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যার এই যে ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি; ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নাগরিক সমাজের পক্ষে তা কতখানি ক্ষতিকর বলে মনে করেন আপনি? নাকি এই পথেই নতুন সমাজ বিন্যাস গড়ে নেবে অনাগত ভবিষ্যৎ?
মৌসুমী:  আমরা ছোট থেকে দেখে আসছি সমাজে বেশিরভাগ বিয়েই কোন না কোন ভাবে টিকিয়ে রাখা হয়। এই ভাবেই আমরা অভ্যস্ত।
                  কিন্তু বর্তমানে যে ভাবে বিবাহ বিচ্ছেদ বাড়ছে তাতে  ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নাগরিকরা হয়তো সে ভাবেই অভ্যস্ত হবে। যে কারণে দেখা যায়, এই প্রজন্মের অধিকাংশই বিয়ে না করে লিভ টুগেদার  করতেই  বেশী আগ্রহী। এমনও হয়তো হতে পারে যে আজ থেকে পঞ্চাশ বা একশো বছর পরে  বিবাহ ব্যাপারটাকেই তেমন আর মানা হচ্ছে না। ইচ্ছে হলে একসাথে থাকলো, ইচ্ছে না হলে ছেড়ে চলে গেল, এবং তাতে কারো কিছু এসেও গেল না।  
                                সমাজের পক্ষে তা অবশ্যই ক্ষতিকর তবে সমাজ সর্বদাই পরিবর্তনশীল। এবং অবশ্যই সেই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেবে পরবর্তী প্রজন্ম।

মৌসুমী ঘোষ দাস: কথাসাহিত্যিক।
Comments
0 Comments

No comments:

Blogger Widgets
Powered by Blogger.