>

সহেলী ভট্টাচার্য

SONGSOPTOK THE WRITERS BLOG | 7/15/2015 |



মাংস (আট) :


রঙীন জলের ফোয়ারা ছুটেছে খাসপুরা গ্রামের 'রাও সাহেব'-এর বাড়ি, সঙ্গে মাংসের নরম-গরম কোফ্তা-কাবাব। পুলিশের বড়কর্তা মেহরাসাহেব, পেট ও পকেট দুই-ই ভ'রে সদলবলে নীচতলা থেকেই বিদায় নিয়েছেন জানতে পেরে, স্ফূর্তির পরিমাণ আরও দ্বিগুণ হয়ে উঠলো...পুরুষমানুষ.. সখ-আহ্লাদ থাকতেই পারে। সে আর নতুন কথা কিকিন্তু তুই নীচু ঘরের মেয়ে, বুকের উপর ওড়না ফেলে রোজ সকালে ব্যাগ ঝুলিয়ে 'কালেজ' যাবি.. আর দু'দিন ছোটাসাবের মন ভরাতে বাগানবাড়িতে বন্দী ছিলিস বলে, মান-ইজ্জৎ সব খুইয়েও কোনোরকমে পালিয়ে এসে গ্রামের ওই হাবাগোবা মানুষগুলোকে তাতিয়ে তুলেছিস থানায় যাওয়ার দুঃসাহসে?

কোই হিম্মৎ তো দেখো ইসকি...


চুপচাপ মুখ বুজে সব কিছু মেনে নেওয়ার পরিবর্তে, পুলিশের দ্বারস্থ গ্রাম্য-মূর্খ-নির্বিবাদী প্রজার দল.. ছোটাসাবকে তারা নাকি গারদে পুরবে..!!  পুনিত মানে ছোটাসাবের বন্ধুরা কিন্তু ব্যাপারটি এত সহজে মিটিয়ে নিতে রাজী নয়, মেয়েটিকে উচিৎ শিক্ষা না দেওয়া পর্যন্ত তাদের কোঁচকানো ভ্রূ আর প্রতিহিংসার আগুন কিছুতেই ঠান্ডা হচ্ছে না...


বেশরম্ লেড়কি, ইতনা সব কুছ হোনে কে বাদ ভি পড়হাই নেই ছোড়া...আজ কলেজ থেকে ফিরতে একটু বেশিই সন্ধে হয়ে গেছে, আকাশে মেঘ জমেছে অল্প, শরীরটাও বিশেষ ভালো নেই.. তাড়াতাড়ি বাড়ির পথ ধরে মুক্তা। পিছন থেকে জোর বাইকের শব্দে বুকের ভিতর ধড়াস্ করে ওঠে, সেদিনের পর থেকে সবসময় এক অস্বাভাবিক আতঙ্কে ভোগে মনে-মনে...চোখে তীব্র আলো পড়ায় ব্যাগখানাকে বুকে চেপে থমকে দাঁড়ায় পথের পাশে.. কিন্তু কোনোকিছু বুঝতে পারার আগেই, কেউ যেন তার মুখে এক বোতল তরল-আগুন ঢেলে দেয়, গলা-বুক-হাত বেয়ে ক্রমশঃ সে আগুন সারা শরীর চামড়া-মাস-পেশী গলাতে থাকে, অসহ্য যন্ত্রণায় দু'হাতে মুখ ঢেকে মাটিতে বসে পড়ে মুক্তা, পাগলের মতো চিৎকার করতে-করতে অজ্ঞান হয়ে যায়.. কিন্তু সেই মুহূর্তে সন্ধের অন্ধকারে শুনশান্ ফাঁকা রাস্তায় কোনো মানুষ নজরে পড়ে না, বাইক ততক্ষণে নিরুদ্দেশ...প্রায় মধ্যরাত, 'রাও সাহেব'-এর বাগানবাড়িতে মহোৎসবের মেজাজ, ছোটাসাব তার বন্ধুদের পার্টি দিচ্ছেন...


খানিক আগেই খবর এসেছে-


মেয়েটি নাকি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অবস্থাতেই ছিল না, জবানবন্দী তো দূর কি বাত্ সন্ধে গড়িয়ে রাত নামার পরেও ঘরের মেয়ে বাড়ি না ফেরায়, গ্রামের লোক যখন তাকে খুঁজতে বেরোয়, তখনও সে মোমের মতো গলছে.. শুধু প্রাণটুকু ধুকপুকানি বন্ধ করেছে অনেকক্ষণ। মশালা মাখানো মূর্গ-মুসল্লমের উপর আরও খানিকটা পাতিলেবুর রস ও লবণ মাখাতে-মাখাতে জিভ দিয়ে চুকচুক্ শব্দ করে পুনিত, "য্যায়সি করনি, অ্যায়সি ভরনি..." প্রবাদ বাক্যের আড়ালে দু-একটি নোংরা কথাও শোনা যায়, হো হো করে হেসে ওঠে নরখাদকের দল...কাঁচের গ্লাসে চলকে ওঠে পানীয়, 'চিয়ার্স' শব্দে শেষ-রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে চুরমার হয়ে যায়...



[সহেলী ভট্টাচার্য্য]

Comments
0 Comments

No comments:

Blogger Widgets
Powered by Blogger.