>

সোনালী বিমুখার্জী

SONGSOPTOK THE WRITERS BLOG | 2/10/2015 |




মেসায়া
কত শিশুখুলি ফেটে ঘিলু ছিটকে গেলে
তবে তুমি আসো?
কত কংস হিরণ্যকশিপু কেটে পিশে চিরে গেল
বন্দী বাবা মার সামনে কোমল আত্মজ
এখনো এলে না?
কারো কান্না পৌঁছয়নি তোমার আসনে
চিরে দেওয়া অপাপ কিশোরী
অসম্মানে দীর্ণ বধু মাতা
হে মানুষ হে জাগ্রত মন
আরো কত ঝিমোবে গুহায়
কত বলি চায় যুগ
কিসে বল ভর্তি হয় থালি
শব সাধনের অর্ঘ্য নানাবিধ নীতিজ্ঞ হেয়ালি
আহা ষাট কুম্ভীরাশ্রু ঘরে গিয়ে লম্বা সিগারেট
কাল সভা আজ রাতে দুটো মেয়ে ওই রুমে ভেট
খুব লেখালিখি হবে উত্তেজিত মস্ত আলোচনা
ছুতোর বা গয়লার ছেলে একটাও এখনো এলো না
ডাক কবি হাহাকারে চিরে ফেল ভাংগা কণ্ঠ নালি
যদি জাগে অভ্যুত্থান খেটে খাওয়া মানুষের ঘর থেকে
দেওয়াল ফাটিয়ে আসে নরসিংহ যিশু বনমালী।

অভিজ্ঞান
কিছুতেই তুমি আর চিনতে পারলে না আমাকে
কোনো কথা আদরের ছিট
স্মৃতি গান ডাক নামে
মনেই পড়লোনা সে সময়
রিস্টোর হল  না তো মেমোরি
আমার  এই একলার মুঠোকরা আঙুলের ফাঁকে
থেকে গেল সোনা গলা  মউ
রিমঝিম শ্রাবণের হিরে পান্না চুনি
জড়োয়ার ঠুংরি ঝিলিক
বোকা হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম
মহারাজ দুষ্মন্ত সভায় আসীন।

টুপ করে পড়ে গেছে
নিখাদ সোনায় মোড়া দিন
গহীন অতল গাঙে কালো  জল
তলাচ্ছে গভীরে আগুনসোনার  আংটি
মহাকাল শ্যেন  দৃষ্টি রাখে
তোমার শকুন্ত পাখি
তপোবন ফেলে উড়ে গেলো
বহ্নি শিশু সাথে নিয়ে
যে বোয়াল ব্যাদিত গহবরে গিলে খেলো
অভিজ্ঞান  প্রেম
তারি নাম এখন জীবন।
তারি আঁশ গন্ধী অন্ধকারে
ডুবে গেলো হীরন্ময়
আকুল ইমন শুদ্ধ পূরবীর রেশ
ডুবে গেলো সব চিহ্ন  তার
অভিজ্ঞান শকুন্তলম।

সংগী
যদি চলে যাই পথে
শ্যাম চলে সাথে সাথে চরণে চরণ ঠেকাইয়ে
আমার সাথে সাথে চলে গো
ছোট বেলায় বড়রা তার ভরসায় রেখে কাজে গেছেন রোজ
শিশু কৈশোর কাল পেরিয়ে প্রেম অজান্তে হাত ধরলে এসে
প্রেম বুঝি?
হবে তাই
আমি শুধু পথে পথে দেখি পায়ে পায়ে জড়িয়ে রয়েছে
শ্যামলা নূপুর পড়া আরামের দাগ
সংসার ঢেউয়ের তালে তালেবর
স্কুবা প্যারা গ্লাইডার ডিপ সি ডাইভিং
দড়ি হাতে বসে আছে সাথে সাথে চলা
বন্ধুরা আড্ডায় কেউ নাস্তিক কেউ বা অস্তিতে
আমি চুপটি  হয়ে থাকি
জানিনা তো আমি কোন দিকে
শুধু রাস্তা পার হতে টের পাই
পায়ে পায়ে বাজে
ছবি বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলা
চরণে চরণ ছুঁয়ে ছুঁই।


[পুপু]
Comments
0 Comments

No comments:

Blogger Widgets
Powered by Blogger.